ক্যারাম খেলা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত,মারধর-হুমকি

289

রায়গঞ্জ: ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে বিবাদে জড়িয়ে পড়লেন স্থানীয় কাউন্সিলর ও বিজেপি নেতা।ঘটনায় রায়গঞ্জ থানায় বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে স্থানীয় কাউন্সিলর মারধর, হুমকি ও সোনার চেন ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন। বুধবার রাতে রায়গঞ্জ পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দপল্লী এলাকার ঘটনা। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও বিজেপি নেতার দাবি, কাউন্সিলার নিজে দলবল নিয়ে আমার ওপর তিন তিনবার আক্রমণ ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আবার আমার বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাতে ক্যারাম বোর্ড খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে বিজেপি নেতার বিরোধ হয়। যাতায়াতের সমস্যা ও গাড়ি রাখার সমস্যা হওয়ায় তার বাড়ির পাশে স্থানীয় যুবকদের ক্যারাম বোর্ড খেলা বন্ধ করে দেন প্রদীপবাবু।বিষয়টি কাউন্সিলারের কানে যায়।তিনি বুধবার রাতে মীমাংসা সভার ডাক দেন। প্রদীপবাবু বাড়িতে না থাকায় মীমাসা সভায় ছিলেন না।

- Advertisement -

কাউন্সিলারের অভিযোগ, মীমাসা সভায় উপস্থিত না থাকার কারণ জানতে প্রদীপবাবুর বাড়িতে গেলে তাঁকে হেনস্থা ও সোনার হার ছিনতাই করে নেন।এরপরেই তৃণমূল কাউন্সিলর অভিজিৎ সাহা সদলবলে রায়গঞ্জ থানায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা তথা শিক্ষক প্রদীপ সরকারের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রদীপ বাবু বলেন, আমি একজন শিক্ষক ও বিজেপি নেতা। আমাকে এলাকা ছাড়া করার জন্য স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছেন। কিন্ত কিছুতেই পারছেন না। তাই এলাকার যুবকদের উস্কে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাকে এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করেছে কাউন্সিলার। তিনি বলেন, আমি একজন দুর্বল মানুষ। আমার না আছে লাইসেন্স ধারী বন্দুক, না আছে লাইসেন্সহীন বন্দুক।কাউন্সিলার দলবল নিয়ে এসে মারধর ও ভাঙচুর চালানোর পর জামা ছিড়ে ও চেন ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে নাটক করছে।পুলিশ শাসকদলের হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় যুবকদের অভিযোগ, সকলের সামনেই ওই মাঠে রাখা ক্যারাম বোর্ডটি ওই বিজেপি নেতা ইট দিয়ে ভেঙ্গে দেন। তাঁরা প্রতিবাদ করলে প্রদীপ বাবু নানাভাবে তাদের হুমকি দেন। স্থানীয় বাসিন্দা সীমা ঘোষ জানান, বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বুধবার সন্ধ্যায় উভয়পক্ষকে আলোচনার জন্য ডাকেন স্থানীয় তৃনমুল কাউন্সিলর অভিজিৎ সাহা। কিন্তু প্রদীপবাবু মীমাংসা সভায় হাজির ছিলেন না। উপস্থিত না থাকার কারণ জানতে কাউন্সিলার প্রদীপবাবুর বাড়িতে গেলে প্রদীপ বাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কাউন্সিলরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। কাউন্সিলরের উপর চড়াও হন বলে শুনেছি। কিন্ত এখানে কোনও গণ্ডগোল হয়নি।

এদিকে এই ঘটনার পর তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, দিদির শাসনে বিজেপির লোকজনদের অত্যাচার করার পর আবার তাঁদের নামেই মিথ্যা মামলা করা হয়।এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তবে আমরা ছাড়ার পাত্র নই। প্রদীপবাবু আমাদের এক নিষ্ঠকর্মী। ২০১৬ সালে রায়গঞ্জ বিধানসভা আসনে আমাদের প্রার্থী ছিলেন।অথচ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হেনস্থা করা হচ্ছে।