ফালাকাটায় পুজোয় জনসংযোগ কতটা, জল মাপছে তৃণমূল-বিজেপি

304

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: এবারের পুজোয় জনসংযোগ নিয়ে ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে টক্কর দেখা দিয়েছে। ঘটা করে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছেন দুই দলের নেতারা। তবে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের নেতা বা জনপ্রতিনিধিরা না থাকায় এবার অনেক পুজোরই আনুষ্ঠানিক কোনও উদ্বোধন করা হয়নি। দলের নতুন ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করেছেন। এদিকে বিজেপি সুযোগ বুঝে এবার নানাভাবে জনসংযোগ চালিয়েছে। পুজোর মধ্যে বেশ কয়েক জায়গায় চায়ের আড্ডায় বসেছিলেন বিজেপির নেতারা। তাই পুজো কাটতেই কোন দলের জনসংযোগ কতটা হল তা নিয়ে জল মাপতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।

ফালাকাটা শহর সহ ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এবার দেড়শোরও বেশি দুর্গাপুজো হয়েছে। এরমধ্যে প্রশাসন অনুমোদিত পুজোর সংখ্যা ৫৯টি। একদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ জনিত কারণে নানা বিধিনিষেধ, অন্যদিকে এবারই প্রথম পুজোর পরিবেশে বিধায়ক সহ অন্য জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি। এই দুইয়ের জেরে ফালাকাটার অনেক পুজো উদ্যোক্তার মন ভালো ছিল না। পুজো কর্মকর্তাদের একাংশ জানিয়েছেন, এবার যেন অভিভাবকহীন অবস্থায় পুজো কেটে গেল। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক দলগুলি এবারের পুজোয় বসে ছিল না। গত লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূলের থেকে ২৭ হাজার ভোট বেশি পাওয়ায় এক বছর থেকেই ফালাকাটায় বিশেষ নজর দিচ্ছে বিজেপি। কিছুদিন আগে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় গেরুয়া শিবির এই আসনে অনেকটাই ঘর গুছিয়ে নেয়। বিজেপির চারটি মন্ডল কমিটি রয়েছে ফালাকাটায়। জেলা কমিটিতে নানা পদে রয়েছেন ফালাকাটার নেতারা। তাই পুজোর দিনগুলিতে এবার বিজেপির জেলা স্তরের নেতা থেকে শুরু করে মন্ডল সভাপতি, অঞ্চল, শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ, বুথ সভাপতি ও পঞ্চায়েতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছেন। বিগত বছরের কোনও পুজোয় গেরুয়া শিবিরের এত সক্রিয়তা ফালাকাটায় দেখা যায়নি। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, ‘আমি নিজে ২৫টি পুজো মণ্ডপে গিয়েছি। সপ্তমীতে রাইচেঙ্গা ও অষ্টমীতে সাইনবোর্ড এলাকায় চায়ের আড্ডায় বসেছিলাম। দশমীতে অনেকেই আমাদের দলে যোগদান করেছেন। এছাড়াও দলের সব পদাধিকারীরাই জনসংযোগ চালিয়েছেন।’

- Advertisement -

তবে এবারের পুজোয় কিছুটা চাপে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধায়ক অনিল অধিকারি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সন্তোষ বর্মন, ফালাকাটা-২ এর উপপ্রধান চঞ্চল অধিকারি, দলের ব্লক কার্যনির্বাহী সভাপতি রণেশ রায় তালুকদারের প্রয়াণে অভিভাবকহীন অবস্থায় পুজো কেটেছে তৃণমূলের। নতুন ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় অবশ্য ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন। সুভাষবাবু বলেন, ‘ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলে গিয়েছি। শহর ও অঞ্চল মিলে ৬০টি মণ্ডপে উপস্থিত ছিলাম। প্রত্যেক অঞ্চল সভাপতি, প্রধান, উপপ্রধান, শাখা সংগঠনের নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে থেকে জনসংযোগ চালিয়েছেন। গোটা ব্লকে শান্তিপূর্ণভাবেই পুজো কেটেছে।’