ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর

210

ফালাকাটা: ২০২১’র বিধানসভা নির্বাচনের আগে সঙ্ঘ পরিবারের সক্রিয়তা বেড়েছে। এবার শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রের জন্য ফালাকাটায় নিধি সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে আরএসএস। রাম মন্দির ও এই তীর্থক্ষেত্রে যাতে হিন্দু নাগরিকদের অবদান থাকে সেজন্য ইচ্ছুকদের কাছে আর্থিক অনুদান চেয়ে একের পর এক ঘরোয়া বৈঠক করছেন সঙ্ঘের প্রতিনিধিরা। যদিও আরএসএসের কেউ প্রকাশ্যে এবিষয়ে মন্তব্য করেননি। কিন্তু ভোটের আগে সঙ্ঘ পরিবারের এই সক্রিয়তায় বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতিকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ধর্মের নামে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদের এই চেষ্টা সফল হবে না বলে তৃণমূলের নেতারা জানিয়েছেন।

এদিকে বিজেপির পালটা দাবি, রাম মন্দিরের সঙ্গে ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই কর্মসূচির সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই বলে বিজেপির নেতারা জানিয়েছেন। তাঁরা পালটা তৃণমূলের বিরুদ্বেই ধর্মের নামে রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন।

- Advertisement -

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফালাকাটায় বিজেপির সাফল্যের পর থেকেই ঘাঁটি গেড়েছে সঙ্ঘ পরিবার। প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যকলাপের মাধ্যমে শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। এখন বিজেপির যেকোনও মিটিং, মিছিলে মানুষের ভিড় উপচে পড়তে দেখা যায়। এদিকে গোপনভাবে সঙ্ঘের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আরএসএস। এখন সংঘের একাধিক শাখা সংগঠন ফালাকাটায় প্রভাব বিস্তার করেছে।

ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে শহরের পাড়া ও প্রতিটি গ্রামেই আরএসএসের লোকজন গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায়দিনই কোথাও না কোথাও আরএসএসের পাশাপাশি নানা শাখা সংগঠনের বৈঠক, আলোচনা হচ্ছে। তবে ছাত্র সংগঠন এবিভিপির পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন হিসেবে ভারতীয় মজদূর সংঘ ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে কার্যকলাপ শুরু করেছে।

সূত্রের খবর, এবার পদ্মশিবির বাঙালি অধ্যুষিত ফালাকাটা আসনকে পাখির চোখ করেছে। আর নির্বাচনে বিজেপিকে জেতানোর জন্য পরোক্ষভাবে সবরকমের কৌশল প্রয়োগ করছে সঙ্ঘ পরিবার। এই প্রস্তুতির মধ্যেই রাম মন্দিরের জন্য অনুদান সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আরএসএস।

রাম মন্দিরের নামে এই আর্থিক অনুদান সংগ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে নিধি সংগ্রহ অভিযান। এজন্য এলাকা ভিত্তিক ছোট ছোট বৈঠক করছে আরএসএস। সংগঠনের পৃথক কমিটিও হয়েছে। ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ১০ থেকে ১০০ টাকার কুপনে অনুদান দিতে পারবেন। আবার এক হাজার থেকে এক লক্ষ বা এর থেকেও বেশি টাকার অনুদান ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই অনুদান প্রদান শুরু হবে। এখন বৈঠকের মাধ্যমে এই কর্মসূচির প্রচার চলছে জোরকদমে। মনে করা হচ্ছে, সরাসরি ভোটের কথা বলা না হলেও অনুদানকে কেন্দ্র করে এইসব বৈঠকের মাধ্যমে নিজের শক্তি বাড়াচ্ছে আরএসএস। তবে সংগঠনের কড়া নিয়ন্ত্রণের কারণে এব্যাপারে কেউ কোনও মন্তব্য করেননি। এদিকে ভোটের আগে আরএসএসের এই সক্রিয়তাকে মেরুকরণের রাজনীতি বলেই বিজেপিকে কটাক্ষ করছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘ধর্মের নামে রাজনীতি করছে বিজেপি। রামের প্রতি সবার শ্রদ্বা রয়েছে। কিন্তু ওরা রামের নামে যে অর্থ সংগ্রহ করবে তা বিজেপির তহবিলে জমা হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার তো মানুষের উন্নয়নের কাজ করছে না। এখন এভাবে অর্থ সংগ্রহ করে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ওদের এই প্রচেষ্টা সফল হবে না।’

এদিকে নিধি সংগ্রহ অভিযানের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে বিজেপির দাবি। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, ‘একজন হিন্দু হিসেবে আমিও দশ টাকার অনুদান দিতে পারি। যাতে বলতে পারি যে, রাম মন্দিরে আমারও অবদান রয়েছে। কিন্তু নিধি সংগ্রহ কার্যক্রমের সঙ্গে বিজেপির কোনও সংযোগ নেই। যাঁরা এই দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা এব্যাপারে বলতে পারবেন।’ অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, সাধারণ কর্মীদের টাকায় বিজেপির তহবিল চলে। বরং ধর্মের নামে রাজনীতি করছে তৃণমূল।