বাউল অনুষ্ঠানে গিয়ে টাকা বিলি করে বিতর্কে তৃণমূল প্রার্থী

126

হেমতাবাদ: হেমতাবাদ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সত্যজিৎ বর্মনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলল বিরোধীরা। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে বাউল গানের অনুষ্ঠানে এসে তৃণমূল প্রার্থী ভোট প্রচারের পর প্রকাশ্যে বাউল উৎসব কমিটির হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার ভিত্তিতে বিরোধী দলের তরফে তৃণমূল প্রার্থীকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে।

হেমতাবাদ বিধানসভার ৭ নম্বর শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিশালা গ্রামে শুরু হয়েছে বাউল গানের আসর। গতকাল অর্থাৎ রবিবার রাতে সেখানে হাজির হন তৃণমূল প্রার্থী তথা রায়গঞ্জ ব্লক-২ তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সত্যজিৎ বর্মন সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব। বাউল গানের আসরে তিনি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য উপস্থিত ভক্তদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন এবং তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান। মঞ্চ থেকে নেমে আসার আগে সত্যজিৎবাবু উৎসব কমিটির সদস্যদের হাতে প্রকাশ্যে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি জলিল মহম্মদের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর এভাবে প্রকাশ্যে টাকা দেওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলে।

- Advertisement -

হেমতাবাদ বিধানসভার সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম প্রার্থী ভূপেন বর্মন জানান, টাকা দিয়ে এলাকার মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যাবতীয় তথ্য হাতে পাওয়ার পর প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে। বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী জানান, সাধারণ মানুষের মন পেতে উৎসব অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে টাকা বিলি করা হচ্ছে। এভাবে টাকা বিলি নির্বাচনি বিধিভঙ্গ করেছে তৃণমূল। জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি পবিত্র চন্দ জানান, নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর কীর্তন, জলসা, বাউল অনুষ্ঠানে গিয়ে উৎসব কমিটির হাতে প্রকাশ্যে টাকা বিলি করা যায় না। সত্যজিৎ বর্মন বলেন, ‘পানিশালায় বাউল অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ ছিল তাই সেখানে গিয়ে কমিটির হাতে কিছু চাঁদা তুলে দিয়েছি। কারণ কীর্তন, জলসা, বাউল তো ব্যাক্তিগত ভাবে কেউ করে না সব চাঁদা তুলেই হয়। নির্বাচনী বিধি লাগু হওয়ার পর এভাবে টাকা দেওয়া যায় না তা আমার জানা ছিল না।’ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের রায়গঞ্জ ব্লক সহ সভাপতি আবু সালেক সরকার। তিনি বলেন, ‘এভাবে টাকা দেওয়া যায় না। কিন্তু কমিটির অনুরোধে আমরা চাঁদা হিসেবে দিয়েছি। আগামীদিনে এভাবে আর দেওয়া হবে না।’ রায়গঞ্জ ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।