বিধানসভা নির্বাচন পাখির চোখ, পুজোর আগেই তৃণমূলের সম্মেলন

215

প্রকাশ মিশ্র, মালদা : একুশের লক্ষ্যে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবার দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের নির্দেশে বিধানসভাভিত্তিক সম্মেলন করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে শুরু করে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এই সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার ১৫টি ব্লক এবং দুটি পুর এলাকার তৃণমূল কমিটির চেয়ারম্যান, সভাপতি ও কর্মকর্তা এবং ব্লকের যুব কর্মকর্তাদের নিয়ে মালদা জেলা পরিষদের বিনয় সরকার অতিথি আবাসে বৈঠক করেন সভানেত্রী মৌসম নুর। কোর কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সেখানে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের তরফে নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের একগুচ্ছ সাংগঠনিক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলির এখন পাখির চোখ ২০২১। এই লক্ষ্যে এখন থেকেই সংগঠন গোছাতে শুরু করেছে তৃণমূল। এতদিন কমিটির অভাবে দলের ঝিমিয়ে পড়া কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবার মাঠে নেমেছেন জেলা কোর কমিটির সদস্য ও আইপ্যাকের কর্তারা। সম্প্রতি দলের মালদা জেলা কমিটি ঘোষিত হয়েছে। ব্লকের সভাপতি ও কর্মকর্তাদের নামও ঘোষিত হয়েছে। নবনিযুক্তদের সাংগঠনিক বার্তা দিতে এদিনের বৈঠক ডাকা হয়। তৃণমূল এবং যুব তৃণমূলের নবনিযুক্ত ব্লক সভাপতি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে আগামী কর্মসূচির বার্তা দিয়েছেন সভানেত্রী মৌসুম নূর এবং টিম পিকের সদস্যরা। একইভাবে সোমবার জেলা কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

- Advertisement -

বিনয় সরকার অতিথি আবাসে এদিনের বৈঠকে জেলা সভানেত্রী মৌসম নুর, চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তিন কোঅর্ডিনেটর দুলাল সরকার, মানব বন্দ্যোপাধ্যায় ও অম্লান ভাদুড়ি। ছিলেন জেলা যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস, দুই মুখপাত্র সুমালা আগরওয়ালা ও শুভময় বসু এবং চার বিধায়ক। এদিনের সভা প্রসঙ্গে মৌসম নুর বলেন, নবনির্বাচিত ব্লকগুলির সভাপতি, সহ সভাপতি সহ যুবর কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয়ে জন্যই এই সভা ডাকা হয়েছিল। সভায় সবাইকে সাংগঠনিক কাজকর্মের জন্য বার্তা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিধানসভাভিত্তিক সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্লক, অঞ্চল ও বুথ কমিটি ৩১ অক্টোবরের মধ্যে গঠন করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, কোঅর্ডিনেটর দুলাল সরকার বলেন, ৯ অক্টোবর থেকে বিধানসভাভিত্তিক সম্মেলন শুরু করে ১৫ তারিখের মধ্যে শেষ করা হবে। একদিনে দুটি করে জনসভা করা হবে। সোমবার জেলা কমিটির উপস্থিতিতে একইভাবে নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে বিনয় সরকার অতিথি আবাসে। সেখানেও সাংগঠনিক বার্তা দেওয়া হবে। দলীয় মুখপাত্র শুভময় বসু জানিয়েছেন, রাজ্য থেকেই আগামী সম্মেলনগুলির জন্য গাইডলাইন ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে সেই ব্লকের সভাপতি, চেয়ারম্যান বা কর্মকর্তারা যেমন থাকবেন, পাশাপাশি জোনাল ও ব্লক কোঅর্ডিনেটর এবং দলীয় মুখপাত্র থাকবেন। ব্লক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও এই পদাধিকারীরা থাকবেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন ও পুরাতন, সবাইকে নিয়ে ব্লকের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্য সংখ্যা ২৭-২৯ জন হতে পারে। ব্লক কমিটির নজরদারিতে পরবর্তীতে অঞ্চল এবং অঞ্চলের নজরদারিতে বুথ কমিটি গঠিত হবে। এই সমস্ত প্রক্রিয়া অক্টোবর মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অর্থাত্ পুজোর মধ্যে যাতে কর্মীরা ঝিমিয়ে না পড়েন তার জন্য সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের মনোবল চাঙ্গা করতে দলের এই উদ্যোগ।

এদিনের সভায় উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিল খুশি খুশি ভাব। সদ্য দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের মধ্যে বিরোধিতার আঁচ ছিল না বললেই চলে। সবাই এদিন একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়েছেন। সদ্য কমিটিতে জায়গা পাওয়া জেলা নেতাদের কয়েকজন বলেন, শনিবার হাথরস নিয়ে যে প্রতিবাদ সভা সমস্ত ব্লকে অনুষ্ঠিত  হয়েছিল। এই জেলায় কোর কমিটির পাঁচজন নেতা-নেত্রী আছেন। অথচ ১৫টি ব্লকে এই বিক্ষোভ প্রতিবাদ সভা হয়েছে। একই সময়ে ওই পাঁচজন যে সব ব্লকে যেতে পারবেন না তা বলাই বাহুল্য। এই অবস্থায় তাঁদের উচিত ছিল, যেখানে তাঁরা যেতে পারছেন না, সেখানে নবনিযুক্ত জেলা সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা সম্পাদকদেরকে দায়িত্ব দেওয়া। যাতে তাঁরা সব ব্লকের সাংগঠনিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কিন্তু তা হয়নি। যদিও এব্যাপারে কোনও নেতা-নেত্রী মন্তব্য করতে চাননি।