উন্নয়নের ধারাকে সম্বল করেই নির্বাচনে নামতে চায় তৃণমূল: সুব্রত মুখোপাধ্যায়

133

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বকালে রাজ্যজুড়ে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে তাঁকে পাথেয় করেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিনের মতো মঙ্গলবারও তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

সেখানে পঞ্চায়েত মন্ত্রী তৃণমূল জামানায় রাজ্যজুড়ে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে তার ফিরিস্তি যেমন তুলে ধরেন তেমনি এই সমস্ত উন্নয়নের বিষয়গুলিকে নিয়েই যে তাঁরা নির্বাচনে লড়বেন সে কথা জানিয়ে দেন। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে সুব্রত বাবু বিশেষ করে জোর দেন রাজ্যজুড়ে যেভাবে সেতু ও রাস্তা নির্মাণ হয়েছে তার ওপর। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল জামানায় রাজ্যে যে রাস্তা তৈরি হয়েছে তা দেশের বুকে অন্য কোনও রাজ্যে হয়নি। শুধু ২০১৮-১৯ সালে এই রাজ্যে মোট ২০০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে। আর ২০১৯-২০ সালে এখনও পর্যন্ত ৪৭৪ কিলোমিটার তৈরি হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের পূর্ত দপ্তর একশোটি সেতু নির্মাণ করছে। যার মধ্যে অন্যতম হল ভাগীরথী নদের উপর ১,০৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণ।’ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, বিগত পাঁচ বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় এই রাজ্যে মোট ৩৫ হাজার ৬১১ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ১৬,৫৬১ কোটি টাকা। শুধু তাই নয় তিনি বলেন, রাজ্যবাসীকে খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু খাদ্য দিলেই চলবে না, দিতে হবে সড়ক ব্যবস্থাও। আর সেই দিকেই মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

এদিন এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়েছেন। সে বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যে মন্তব্য করেছেন তাকে উড়িয়ে দেন সুব্রতবাবু। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন নাটক করেন না। আসলে জন্মসূত্রেই দীলিপবাবু নাটুকে চরিত্রের। তাই উনি সবেতেই নাটক দেখেন। ওনার সম্পর্কে কোনও কথা বলাই দুঃখজনক বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অনুসরণ করতে শিখিয়েছেন রাজ্যবাসীকে। আসলে এটা তার সামাজিক মূল্যবোধ। মুখ্যমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে সরকারি সুবিধা কিভাবে নিতে হয়। এর ফলে রাজ্যের কোনও মানুষই লাইনে দাঁড়িয়ে সরকারি পরিষেবা গ্রহণ করতে আর দ্বিধাবোধ করবেন না বলে তিনি মনে করেন।’ বিজেপির প্রতি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আসলে বিজেপি দলের নেতাদের কোনও সামাজিক দায়িত্ববোধ নেই। তাঁরা সাধারণ মানুষ থেকে একটু দূরেই অবস্থান করেন।’ তাই রাজ্যের মানুষ তাঁদেরকে দূরেই সরিয়ে রাখবেন বলেও তিনি মনে করেন।