ফিরেও তাকায়নি দল, মৃত বিজেপি কর্মীর শেষকৃত্য সারল তৃণমূল

182

বর্ধমান: করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ভেবে কেউ এগিয়ে যাননি বর্ষীয়ান বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ সৎকারে। মিখ ফিরিয়েছেন দলীয় কর্মীরাও। যদিও মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেননি স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা।  রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে মনবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতার দেহ সৎকার করলেন তারা। রাজনৈতিক হিংসার মাঝে শনিবার তৃণমূল কর্মীদের এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে অভিভূত পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্ৰামের চাকতার বাসিন্দারা। অন্যদিকে তৃণমূল কর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানান প্রয়াত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী।

কেতুগ্রামের চাকতা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বিজেপি কর্মী অনুপ বন্দ্যোপাধ্যায়(৬০)। দলীয় সূত্রে খবর, বিজেপির বুথ সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। শুক্রবার দুপুর নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই তিনি মারা যান বলে খবর। যদিও প্রতিবেশীরা আশঙ্কা করেন অনুপবাবু করোনায় আক্রান্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। এই গুজবের জেরেই বিজেপি নেতার সৎকারে এগিয়ে আসেননি দলের কোনও একজনও। মৃত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী রীনাদেবী বলেন, ‘সবাই মনে করেন আমার স্বামী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাই সংক্রমণের ভয়ে কেউ সৎকারে এগিয়ে আসেননি। রাতভর স্বামীর মৃতদেহ আগলে বসেছিলাম। শেষে এদিন সকালে এলাকার তৃণমূলের কর্মীরাই আমার স্বামীর দেহ সৎকারের ব্যাবস্থা করেন।’

- Advertisement -

এবিষয়ে কেতুগ্রামের আনখোনা অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বুদুন শেখ বলেন, ‘আমাদেক দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর কথা প্রতি মুহুর্তে বলেন। এদিন রীনাদেবীর অসহায় অবস্থার কথা জেনে দায়িত্ব এড়িয়ে বসে থাকতে পারিনি।’

বিজেপির সাংগঠনিক কাটোয়া জেলার সহ-সভাপতি অনিল দত্ত বলেন, ‘ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই চাকতা গ্রামে বিজেপির কর্মীরা সব গ্রামছাড়া রয়েছেন। তাই দলের কেউ যেতে পারেননি।’