শুভেন্দু অনুগামীকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল

105

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: দল বিরোধী ক্রিয়াকলাপের জন্য রায়গঞ্জ পুরসভার তৃণমূলের কাউন্সিলর অসীম অধিকারীকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগারওয়াল। বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলন করে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানান কানাইয়ালাল আগারওয়াল।

এদিন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা রায়গঞ্জের তৃণমূলের প্রার্থী কানাইলাল আগরওয়াল বলেন, ‘দিন কয়েক আগে অসীম অধিকারীকে শোকজ করা হয়েছিল। চলতি মাসের ২৭ তারিখে মার্চেন্ট ক্লাব মাঠে আমাদের কর্মীসভায় আস্তে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। শোকজেরও কোনো জবাব দেননি। পরে আমরা জানতে পারি নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারে রয়েছেন। সমস্ত তথ্য প্রমাণ এদিন হাতে পাওয়ার পর আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেই। আজ থেকে অসীম অধিকারী সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তাকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

- Advertisement -

উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার প্রায় ২৫ দিন হয়ে গেলেও রায়গঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর অসীম অধিকারীকে প্রচারে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। এই নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ ছিল। তাঁর ওয়ার্ডের দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারের’ দেওয়াল লিখনের কাজেও গতি আসেনি।

প্রসঙ্গত, অসীম অধিকারী রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এই অবস্থায় দলে তাঁর অবস্থান নিয়েছিল চর্চা। এদিন দল থেকে বহিষ্কার করা হল। অসীমবাবুর বক্তব্য, ‘আমি স্ত্রীর অসুস্থতাঁর জন্য কলকাতায় গিয়েছিলাম। সেই ব্যাপারে তৃণমূল নেতা তথা কাউন্সিলর রতন মজুমদার ও টাউন কংগ্রেসের সভাপতি তৃণমূলের ভোলা মুখোপাধ্যায়কে আমি বলে গিয়েছি। ১ তারিখ থেকে আমার প্রচার করার কথা ছিল। তাঁর আগেই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কি কারণে বহিষ্কার করা হল সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’ অপরদিকে, শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর অসীম প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, ‘দাদা যেদিকে আমিও সেদিকে।’ এরপর শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অসীম বলে ‘দাদার সঙ্গে সারাজীবন সম্পর্ক থাকবে।’

এদিন তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ‘অসীমের ব্যক্তিগত অফিসে এখনো শুভেন্দুর ছবি রয়েছে। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলেও শুভেন্দুর ছবি রয়েছে। সম্প্রতি শুভেন্দুর সমর্থনে নন্দীগ্রামে প্রচার করেছেন তৃণমূলের কাউন্সিলর অসীম অধিকারী। এই প্রেক্ষাপটে অসীমের অবস্থান নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কানাইয়ার সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার এবং দেয়াল লিখনে নিষ্ক্রিয় থাকায় তাঁর ওপর নজরদারি চালায় পিকে। হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব।’

এদিকে, অসীম বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। রায়গঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার বলেন, ‘অসীম অধিকারীকে একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দলের হয়ে প্রচারের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে কিন্তু তিনি রায়গঞ্জের থেকেও দলের কোনো কাজ করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’