তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জামালপুরে বন্ধ ১০০ দিনের কাজ

123

বর্ধমান: অতিমারিতে গ্রামগঞ্জের গরিব মানুষের আর্থিক হাল ফেরাতে ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে তা পণ্ড হতে বসেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর-২ পঞ্চায়েত এলাকায়। বুধবার এই পঞ্চায়েত এলাকার জোড়বাঁধে চরমে ওঠে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘাত। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন বাধ্য হয় জোড়বাঁধে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করতে। বিরোধীদের পাশাপাশি জবকার্ড শ্রমিকরাও এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জামালপুরের শুড়েকালনা নিবাসী জেলা তৃণমূল নেতা প্রদীপ পাল বলেন, ‘জামালপুর-২ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান উদয় দাস নিজের মন মত কিছু জবকার্ড শ্রমিককে দিয়ে ১০০ দিনের কাজ করাচ্ছে। অথচ জোড়বাঁধ সাংসদ এলাকায় প্রায় দু’শো জন জবকার্ড শ্রমিক রয়েছে। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যকে কিছু না জানিয়েই উপপ্রধান বিভিন্ন কাজ করছে। এদিনও এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই জোড়বাঁধ এলাকায় ১০০ দিনের কাজ শুরু হয়। সেই খবর পেয়ে এলাকার অন্য জবকার্ড শ্রমিকরা বাঁধে গিয়ে আপত্তি তোলে। তা নিয়ে সংঘাত চরমে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি মারামারির উপক্রম হয়। কাজ না পাওয়া জবকার্ড শ্রমিকদের আপত্তিতে পরে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।’ এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যা শর্মিলা দাস বলেন, ‘তাঁকে না জানিয়েই উপপ্রধান তাঁর সাংসদ এলাকায় কিছু জবকার্ড শ্রমিক নিয়ে কাজ করাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ। এমনটা চলতে দেবেন না বলে পঞ্চায়েত সদস্য শর্মিলা দাস এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন।’

- Advertisement -

১০০ দিনের কাজের সুপারভাইজার উজ্জ্বল চক্রবর্তী দাবি করেন, নিয়ম মেনে মাষ্টাররোল তৈরি করে এদিন জোড়বাঁধ এলাকায় একশো জন জবকার্ড শ্রমিককে নিয়ে কাজ শুরু হয়। এলাকার কয়েকজন জোড়বাঁধে এসে নানা অজুহাত তুলে কাজ বন্ধ করে দেয়। আপত্তিকারীদের তৃণমূলের লোক বলে মানতে চাননি তিনি। তিনি দাবি করেন, আপত্তিকারীরা সকলে বিজেপির সমর্থক। তিনি বলেন, ‘গোটা ঘটনা তিনি ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছেন। পঞ্চায়েতের উপপ্রধান উদয় দাস এদিনের ঘটনা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চান নি। তবে তিনি সাফাই দিয়েছেন, সরকারি নিয়ম মেনেই পঞ্চায়েত কাজ করছে। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ জোড়বাঁধের জবকার্ড শ্রমিকরা জানান, নেতায় নেতায় দ্বন্দ্বে যেন তাঁদের কাজ বন্ধ না হয়। তাঁরা যাতে বেশি করে ১০০ দিনের কাজ পান তার ব্যবস্থাই করুক প্রশাসন।

বিজেপির জামালপুর বিধানসভার আহ্বায়ক জীতেন ডকাল বলেন, ‘এদিন জোড়বাঁধে যা কিছু ঘটেছে তার সবটাই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আড়াল করতে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী এখন অপর গোষ্ঠীকে বিজেপি বানিয়ে দিচ্ছে। এরথেকে বড় লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। জোড়বাঁধ এলাকার মানুষ তৃণমূলের এসব নাটক সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল রয়েছেন।’ জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘১০০ দিনের কাজ নিয়ে সমস্যার কথা শুনেছি। সমস্যা মিটিয়ে দ্রুত যাতে ১০০ দিনের শুরু হয় সেবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’