তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে থমথমে চুলকানির বাজার, ব্যবসায় মন্দা

296

তুফানগঞ্জ: তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের পরের দিন থমথমে দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের চুলকানি বাজার। এলাকায় তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সভাপতি ফারুক মন্ডল এবং মজিবর রহমানকে আপাতত এলাকার বাইরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাতেই ছাড়া হয় বলে খবর তুফানগঞ্জ থানা সূত্রে। দুই নেতার ১৩ জন অনুগামীকে নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের আদালতে তোলা হয়। পুলিশের কাছ থেকে ওই দুই নেতা ছাড়া পেলেও আদালত দুই নেতার ১৩ জন কর্মীদের ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেয়।

অন্যদিকে, এই কোন্দলে তিন মাস ধরে চুলকানির বাজারের ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একথা জানান দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের চুলকানি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। আতঙ্কের কারণে বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুলছেন না। যারা দোকান খুলছেন তাদের ব্যাবসা নেই বললেই চলে। এ কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে চুলকানী বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাই এলাকার ব্যবসায়ীরা পুলিশকে এলাকা শান্ত করার মৌখিক আর্জি জানিয়েছেন।

- Advertisement -

চুলকানির বাজারের ব্যবসায়ী কাজী ইন্তাম আলী, ফিরদৌস আলী জানান, প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আগে সকাল ৮ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ব্যাবসা হত। বাজারে যেমন লোক আসত তেমন বিক্রিবাটা হত।কিন্তু বর্তমানে গন্ডোগোলের জন্য সাধারণ মানুষ বাজারে আসছেন না। ব্যাবসায় মন্দা চলছে। একদিকে করোনা মহামারি অন্যদিকে এই গন্ডোগোলের জোড়া ফলায় পড়ে ব্যাবসা লোপাট হওয়ার জো। আপাতত বাজারে পুলিশ পিকেট রয়েছে। মৌখিক ভাবে এলাকা শান্তি রক্ষার আর্জি জানিয়েছি। যদিও ব্যাবসা বন্ধ নিয়ে চুলকানি বাজার কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদক কেউই সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দলে প্রায় তিনমাস ধরে উত্তপ্ত দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের চুলকানি বাজার এলাকা। দফায় দফায় মারামারি এবং ভাংচুর চলছে৷ কার্যত সন্ধ্যার পরেই দুই গোষ্ঠীর মিছিলে উত্তেজনা ছড়াচ্ছিল এলাকায়। এই উত্তেজনা সোমবার চরমে পৌঁছায়। পুলিশ ফারুক মন্ডল এবং মজিবর রহমান সহ তাদের ১৩ জন অনুগামীদের প্রথমে আটক করে। দুই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিলেও গ্রেপ্তার করা হয় ১৩ জন অনুগামীকে।

তুফানগঞ্জ থানা সূত্রে খবর, এলাকায় উত্তজনা তৈরির অপরাধে সোমবার ফারুক মন্ডল এবং মজিবর রহমান সহ ১৫ জনকে আটক করা হয়। ফারুক মন্ডল এবং মজিবর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড়া হলেও ১৩ জনকে এদিন আদালতে তোলা হয়। আদালত তাদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এলাকায় শান্তি রক্ষার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।