নিজ স্বার্থেই পাহাড়ের সমস্যা জিইয়ে রেখেছে তৃণমূল: দিলীপ ঘোষ

293
ছবি: কৌশিক দত্ত

কলকাতা: নিজেদের স্বার্থেই তৃণমূল কংগ্রেস পাহাড়ের সমস্যাকে জিইয়ে রেখেছে। পাহাড়ের মানুষ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নেই। সেখানকার মানুষ বিজেপির সঙ্গেই আছেন বলে এদিন দাবি করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

এদিন দলীয় দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আরও বলেন যে, বিমল গুরুং যেভাবে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়েছেন তাতে পাহাড়ের মানুষ বিশেষ করে নির্যাতিত ও প্রতারিত মানুষেরা খুব্ধ। তাই তাঁরা মনে প্রাণে এখনও বিজেপির সঙ্গে আছেন। এদিন তিনি আরও জানান যে, কাটমানির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আলু নিয়ে সংকট তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। এছাড়া সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ কি তা নিয়ে রাজ্য সরকারকেই জবাব দিতে হবে।

- Advertisement -

এদিন তিনি আরো অভিযোগ তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসে এই স্লোগান জোরালো হয়ে উঠেছে যে, ‘পিকে হটাও তৃণমূল বাঁচাও।‘ আর তারই জেরে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব দলত্যাগ করছে। এদিন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কয়লা, গরু পাচার থেকে শুরু করে সমস্ত চোরাচালান বন্ধ হবে সিবিআই যত বেশি সক্রিয় হবে। আর সিবিআইকে সক্রিয় করার জন্যই তাঁরা ২০২১ এর এরাজ্যের নির্বাচনকে মহাযুদ্ধ হিসেবে ধরে নিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীরা নামছেন।

কৃষি আইন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে সরব হয়েছেন সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, পঞ্জাবের কিছু লোকের গাড়ি রয়েছ, বাড়ি রয়েছে, তাঁরা কৃষকদের লুট করে আসছে। আর নিজেদের ধান্দা বন্ধ হয়ে যাবার ভয়েই তারাই বেতিব্যস্ত করে তুলছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। তার মতে দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার অনুকরণ করতে গিয়ে এ দেশের সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। তাই দেশকে সংকটমুক্ত, আত্মনির্ভর করতে অরবিন্দের পথকেই বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন যে, তাঁরা সমস্ত বুথস্তরে বিস্তারকারী পাঠাবেন। তারা এলাকায় গিয়ে সংগঠনকে মজবুত করবেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন যে, দার্জিলিংয়ের যে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে সেখানে তাদের কোন বিধায়ক নেই। তবে মানুষ যে তাদের পাশে আছে এটা বুঝেই ইতিমধ্যে তাঁরা কল্যাণ দিবাং নামে এক দলীয় নেতাকে ওই জেলার জেলা সভাপতি করেছেন। আর খুব শিগগিরই তিনি পাহাড়ে যাবেন বলেও জানান।

এর আগে এদিন দক্ষিণ কলকাতা হেস্টিংস দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীলিপবাবু জানান, শুভেন্দু অধিকারী শুধু আজকেই নয় বিগত মাসখানেক ধরে একাধিক সভা করেছেন। আর তিনি কোন দিকে আছেন সেটা কোন ভাবেই পরিষ্কার করেননি। শুভেন্দু বাবু তৃণমূলে থাকবেন কি যাবেন সেটা তৃণমূলের ঘরের ব্যাপার। তবে তিনি একথা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে পারেন যে তৃণমূলে থেকে কেউ কিছু করতে পারবে না সেটা বুঝেই অনেক নেতাই দল ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন।

সেখানেও তিনি কৃষি আইন নিয়ে সোচ্চার হয়ে বলেন যে, কৃষকদের লুট করে কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছিলেন। আর তাদের স্বার্থ সিদ্ধিতে বাঁধা পড়ায় তারা সোচ্চার হয়েছেন। তিনি বলেন যে, স্বাধীনতার পর কৃষকদের জন্য এভাবে কোন প্রধানমন্ত্রী ভাবেননি। তার মতে কৃষকদের যে কৃষক নিধি সম্মান কেন্দ্রীয় সরকার দিচ্ছে এটা এর আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তাই স্বার্থন্বেষী কিছু মানুষ গেল গেল রব তুলেছে। তার মতে এই বিলে আখেরে কৃষকরাই লাভবান হবেন এটা দেশের কৃষক সম্প্রদায় আস্তে আস্তে বুঝতে পারছেন। তাই সেই আন্দোলন আস্তে আস্তে স্থিমিত হচ্ছে বলেই মনে করেন তিনি।