‘কয়লা চোর বিধায়ক’ পাণ্ডবেশ্বরে পোস্টার ঘিরে অস্বস্তিতে তৃণমূল

105

আসানসোল: পাণ্ডবেরশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক ‘দূর্নীতির সঙ্গে জড়িত’ দাবি করে তাঁরই এলাকায় পোস্টার পড়ল। বুধবার এই পোস্টার ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায় পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বরে। অভিযোগ, পাণ্ডবেশ্বর নাগরিক মঞ্চের নামে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে বিধায়কের নাম জড়িয়ে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি কোনও মন্তব্য না করলেও বিষয়টি দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানান, ঘটনায় যে বা যাঁরা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে দলগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর মাসে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন আসানসোল পুরনিগমের প্রাক্তন পুর প্রশাসক তথা পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। একইসঙ্গে তিনি আসানসোল পুরনিগমের পুর প্রশাসক ও দলের জেলা সভাপতির পদও ছেড়েছিলেন। যদিও দু’দিন পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে ফের দলে ফিরে আসেন। কিন্তু দল তাঁকে পুরনো পদ ফিরিয়ে দেয়নি। এরপরে দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি। ক্ষমা চেয়ে ফের দলের দায়িত্ব তুলে নিতে চান বলে জানিয়েছিলেন জিতেন্দ্রবাবু। এরপরই কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস ভবন থেকে শুরু করে দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁকে দেখা যায়। স্বমহিমায় দলের প্রথম সারির লক্ষ্যেই এগোচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ফের ছন্দপতন ঘটল। পাণ্ডবেশ্বর স্টেশন বাজার থেকে শুরু করে এলাকাজুড়ে ‘মানছি না, মানব না, এই বিধায়ক আর নয়’ লেখা পোস্টার দেওয়ালে সাঁটানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, বিধায়ক দলের বিরুদ্ধে বেসুরো গাওয়ার পরই, তিনি বিজেপিতে যোগদান করছেন এই ভেবে পাণ্ডবেশ্বর সহ আসানসোলের বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধাচারণ শুরু হয়েছিল দলেরই তরফে। এই প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।

- Advertisement -