ঘাটতি পূরণে আলিপুরদুয়ারে ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃণমূল

868

শালকুমারহাট: আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ২০১৮’র পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল ভালোই ছিল। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে গোটাব্লকে বিজেপির কাছে ধাক্কা খাওয়ায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কিছুটা চাপে রয়েছে তৃণমূল। তাই এখন থেকেই ভোটের কথা মাথায় রেখে ঘুঁটি সাজাচ্ছে শাসক দল। কোন গ্রাম পঞ্চায়েতে দলের কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করার জন্যই শুক্রবার সাহেবপোঁতা ব্লক কার্যালয়ে ১০ জন অঞ্চল সভাপতির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে। বৈঠকে তিনি নেতৃত্বদের একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের এই তৎপরতায় চিন্তিত নয়।

গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গোটা আলিপুরদুয়ার জেলাতেই চাপে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকে মনোরঞ্জন দে-র নেতৃত্বে সাংগঠনিক অবস্থান ভালো থাকা সত্ত্বেও কেন এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি ভোট বেশি পেয়েছিল,তা নিয়ে অঙ্ক মেলাতে পারছেন না তৃণমূলের ভোট ম্যানেজাররা। বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর চেষ্টায় এই ব্লকে বহু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এখনও একাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। আবার দলের ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে জেলা পরিষদেরও সহকারি সভাধিপতি পদে রয়েছেন। তাঁর মাধ্যমেও উন্নয়নের কাজ চলছে। তা সত্ত্বেও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির থেকে ভোট কম পাওয়ায় একুশের ভোটের আগে এখন সাংগঠনিক ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল। এদিকে এবার বিধায়ক পদ প্রার্থী হিসেবে ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে-র নাম নিয়ে দলের অন্দরে চর্চা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনা করেই পিকে’র নির্দেশে এদিন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মনোরঞ্জন বাবু।

- Advertisement -

শালকুমার-১,শালকুমার ২, পাতলাখাওয়া, মথুরা, চকোয়াখেতি, পররপার, তপসিখাতা, বনচুকামারি, বিবেকানন্দ-১, বিবেকানন্দ-২ গ্রাম পঞ্চায়েত গুলি আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভূক্ত। এদিন এই গ্রাম পঞ্চায়েত গুলির ১০ জন অঞ্চল সভাপতির সঙ্গে ব্লক সভাপতির বৈঠকে সাংগঠনিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, বর্তমানে কোন অঞ্চলে দলের কী অবস্থান, লোকসভা ভোটের প্রভাব এখনও আছে কিনা, ভোটারদের অবস্থান কী অবস্থায় রয়েছে, পিছিয়ে থাকা বুথে কীভাবে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব, কীভাবে আরও বেশি করে মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সব কিছু জানার পর যেভাবেই হোক, দ্রুত অঞ্চলে অঞ্চলে ঘাটতি পূরণের নির্দেশ দেন ব্লক সভাপতি।

পরে মনোরঞ্জন বাবু বলেন, ‘অঞ্চল সভাপতিদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলা হয়েছে।’ এর বাইরে তিনি কিছু বলতে চাননি। তবে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, ‘তৃণমূল এখন যতই বৈঠক করুক, লাভ হবে না। এই বিধানসভা কেন্দ্রে আমরা এবার ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতব। মানুষ বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে।’