ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়ক: ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে সুবিধা পাচ্ছে তৃণমূল

728

ফালাকাটা: ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি নির্মীয়মাণ মহাসড়কের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর দোকানপাট ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রে হওয়ায় এই ইস্যুতে ভোটের অংক কষতে শুরু করেছে রাজ্যের শাসক দল। মহাসড়ক কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প হওয়ায় ব্যবসায়ীদের পাশে থেকে সুবিধা পেতে চাইছে তৃণমূল।

দলের আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী এই মহাসড়ক নির্মাণে টালবাহানা ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেদের বিষয়টি সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকেও তুলে ধরেছেন। তিনি এখন ব্যবসায়ীদের আন্দোলনে সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের ইস্যুতে বিজেপি কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। যদিও দলের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার জন্যই জটিলতা হচ্ছে।

- Advertisement -

গত বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে এসে ফালাকাটা থেকে সলসলাবাড়ি পর্যন্ত ৪১ কিমি রাস্তায় ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর বা চার লেনের মহাসড়কের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু একাধিক জটিলতায় বারবার এই মহাসড়কের কাজ বাধা পাচ্ছে। সড়ক উদ্বোধনের আগেই পিডব্লিউডি-র জমিতে থাকা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

সম্প্রতি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের নোটিশ ধরাতে শুরু করেছে। এনএইচএইআই-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর সঞ্জীব শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, পিডব্লিউডির জমিতে থাকলে সরতে হবে। এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনও আইন নেই। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এই বার্তায় ব্যবসায়ীমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁরা এখন আন্দোলনে নামার তোড়জোড় শুরু করেছেন।

এই রাস্তায় সাইনবোর্ড, রাইচেঙ্গা, বালুরঘাট, কালীপুর, মেজবিল, শিলবাড়িহাট, শালকুমার মোড়, ঘাটপাড় প্রভৃতি এলাকা ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়েছে। আবার আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে সাহেবপোঁতা, সোনাপুর, সোনাপুর কলোনি, বাবুরহাট, ঘরঘরিয়া বাজার এলাকা। সব মিলিয়ে প্রায় দু’হাজার ব্যবসায়ী ও চার হাজার কর্মচারী রয়েছেন। তাঁরা সংঘবদ্ধ হচ্ছেন বলে খবর। এখন ভোটের হিসেবে এই ছ’হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার মুখপাত্র তথা বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানায় গত বছর উদ্বোধনের পরও মহাসড়কের কাজ সেভাবে এগোয়নি। কোনও সেতুর কাজ না হওয়ায় চলতি বর্ষায় হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি হয়। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকেও জানিয়েছি। ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দোকানঘর ভেঙে নতুন দোকান তৈরি করতে হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তাই ওঁদের আন্দোলনে আমি পাশে থাকব।

বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, মহাসড়কের নানা জটিলতার জন্য দায়ী রাজ্য সরকার। এই সরকার এখনও জমি জট কাটাতে পারছে না৷ আর পিডব্লিউডি-র জমিতে থাকা ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি তিনিও খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক এই চাপানউতোরে ব্যবসায়ী সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি পড়লে তাঁরা গর্জে উঠবেই। আমরা রাজনীতির প্যাঁচে নেই। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিপূরণ না হলে পুজোর আগেই আন্দোলন শুরু হবে।