উদ্বাস্তু ভোট টানতে বুথস্তরে যাচ্ছে তৃণমূল

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে বিজেপি লোকসভা নির্বাচনে প্রচার করেছিল। এই সুবাদে তারা নির্বাচনে সাফল্যও পায়। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এই ভোট হাতছাড়া করতে চায় না। তাই আলিপুরদুয়ার জেলার প্রতিটি উদ্বাস্তু কলোনিতেই সংগঠন তৈরিতে তারা জোর দিয়েছে। একেবারে বুথস্তরে বাছাই করা নেতৃত্বকে দায়িত্ব দিয়ে ওই অংশের ভোট নিজেদের দিকে টানতে শাসকদল ঘুঁটি সাজাচ্ছে। এজন্য তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা উদ্বাস্তু সেল ব্লক কমিটি গঠনের পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যেই বুথস্তরেও বুথ কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছে।

তৃণমূলের উদ্বাস্তু সেলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মিহির দত্ত বলেন, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই জেলার সমস্ত উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের পাট্টা দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে উদ্বাস্তু কলোনিগুলিতে আমাদের সংগঠনও তৈরি করা হবে। বিধানসভা নির্বাচনে জেলার উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দারা আমাদের সঙ্গেই থাকবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। সংগঠনের জেলা সম্পাদক পার্থ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল জেলার সমস্ত উদ্বাস্তুদের জমির অধিকার দিচ্ছে। কলোনিগুলিতে কী করে উন্নয়ন করা যায় সেই পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। বাছাইদের নিয়ে বুথ কমিটিও গঠন করা হচ্ছে। তাই তাঁরা তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন বলে আমাদের বিশ্বাস। তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, বাম আমলে উদ্বাস্তু কলোনিগুলির বাসিন্দাদের পাট্টা দেওয়ার তেমন কোনও কাজ হয়নি। তাই জেলার সব উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের নিঃশর্ত পাট্টা দেবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলিপুরদুয়ার জেলায় এই কাজ দ্রুতগতিয়ে এগিয়ে চলছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সমস্ত বাসিন্দা পাট্টা পেয়ে যাবেন।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, গত লোকসভা নির্বাচনের প্রাকমুহূর্তে এনআরসি, সিএএ নিয়ে বিজেপি বেকায়দায় পড়ে। সিএএ-র পক্ষে প্রচারে বিজেপির রাজ্য নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুরদুয়ারে এলে তাঁকেও সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়। ওই সময় বিজেপির বিরুদ্ধে শাসকদল তৃণমূল থেকে শুরু করে বাম-কংগ্রেস জেলাজুড়ে আন্দোলনে নামে। তৃণমূল ভেবেছিল, যেভাবে বিজেপি নাকানিচোবানি খাচ্ছে তাতে লোকসভাতে বিজেপির ফল খারাপ হতে বাধ্য। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের রেজাল্ট বের হতে সে ছবি উলটে গিয়েছে। জেলার প্রতিটি বিধানসভাতেই তারা তৃণমূলকে টেক্কা দেয়। এরপরেই তৃণমূল জেলায় প্রায় ঝিমিয়ে পড়ে। তবে হার নিয়ে দলে অন্তর্তদন্তও শুরু হয়। সেখানেই তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব লক্ষ করেন, জেলার বেশিরভাগ উদ্বাস্তু ভোট বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আবার তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলেও বিজেপি প্রচার চালায়। এই অবস্থায় উদ্বাস্তুদের নিজেদের দিকে টানতে তৃণমূল কৌশল নেয়। উদ্বাস্তুদের নিজেদের দিকে রাখতে হলে তাদের জমির অধিকার দিতে হবে বলে তারা পরিকল্পনা করে।

সূত্রের খবর, গত লোকসভা নির্বাচনের পরই উদ্বাস্তুদের জমির অধিকার দেওয়ার জন্য প্রত্যেক কলোনির বাসিন্দাদের নিঃশর্ত পাট্টা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। এজন্য আলিপুরদুয়ার জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর কাজও শুরু করে। দপ্তর সূত্রে খবর, আলিপুরদুয়ার জেলায় ৬৪টি উদ্বাস্তু কলোনি আছে। আলিপুরদুয়ার পুরসভা এলাকায় ১৬টি উদ্বাস্তু কলোনি আছে। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে ১১টি, আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকে ১২টি উদ্বাস্তু কলোনি আছে। এছাড়াও কুমারগ্রাম ব্লকে ৯টি, ফালাকাটায় ৮টি, কালচিনিতে ৭টি এবং মাদারিহাট ব্লকে ১টি উদ্বাস্তু কলোনি আছে। এই ৬৪টি উদ্বাস্তু কলোনিতে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা বসবাস করেন। ইতিমধ্যেই প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে পাট্টা দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও আড়াই হাজার বাসিন্দাকে পাট্টা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাকি বাসিন্দাদের আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই পাট্টা দেওয়া হবে। পাট্টা দেওয়ার এই কাজে প্রশাসনকে সাহায্য করতে তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা উদ্বাস্তু সেল এগিয়ে এসেছে। পাট্টার আবেদনকারীদের যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার মতো সমস্ত কাজই তারা করছে।