শংকর মালকারকে দলে আসার প্রস্তাব দিচ্ছে তৃণমূল

1553

শিলিগুড়ি : একদিকে সদ্য প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগ রুখতে শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছে তৃণমূল, অন্যদিকে কোচবিহারে তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামীর দল পরিবর্তন, আলিপুরদুয়ারের দুই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতার দল ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ। সব মিলিয়ে দক্ষিণ থেকে উত্তরে দলের নেতা-কর্মীদের ধরে রাখতে, দলের হাল এবার নিজেই শক্ত হাতে ধরেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দল ছাড়ার এই ডামাডোলে শিলিগুড়িতে ইতিমধ্যেই পাঁচ কাউন্সিলারকে দলে টানার ব্যাপারে বেশ কিছুটা এগিয়েছে বিজেপি। এই পাঁচজনের মধ্যে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলার রয়েছেন তেমনই কংগ্রেস ও বামেদের কাউন্সিলারও রয়েছেন। এদিকে, দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তথা বিধায়ক শংকর মালাকারকে তাদের দলে আসার প্রস্তাব দিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু দলের রাজ্য নেতত্বের তরফেই নয়, খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গেও নাকি কথা হয়েছে শংকর মালাকারের। বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে। শংকরবাবু বিষয়টি স্বীকার না করলেও, সূত্রের খবর,  শংকর মালাকারকে শুধু দলে টানাই নয়, মন্ত্রিত্ব দেওয়ার কথাও নাকি বলা হয়েছে।

বিধানসভা ভোট মিটলেই শিলিগুড়িতে পুরভোট হবে। গত মে মাসের ১৭ তারিখ বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর শিলিগুড়িতেও প্রশাসকমণ্ডলীর ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার দল গোছাতে ময়দানে নেমে পড়েছে সব রাজনৈতিক দল। বামেরা যেমন শিলিগুড়িতে তাদের গতবারের প্রাপ্ত ভোট ধরে রাখার টার্গেট নিয়েছে, তেমনই ঘর গোছাতে নেমেছে বিজেপি ও তৃণমূল। বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে বিজেপির পক্ষে শিলিগুড়ি পুরনিগম দখল করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাই অন্য দলের হেভিওয়েট নেতাদের দিকে হাত বাড়িয়েছে তারা। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের পাঁচ বিদায়ি কাউন্সিলার বিজেপির দিকে পা বাড়িয়েছেন বলে খবর। বিজেপি সূত্রের খবর, পুরো বিষয়টিই এখন দরাদরির পর্যায়ে রয়েছে। কেউ কেউ আবার বিজেপির জেলা নেতৃত্বকে টপকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। কারণ পুরোনো দল ছেড়ে বিজেপিতে গেলে তাঁদের কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে ও পুরভোটে তাঁদের টিকিটের বিষয়টিও নিশ্চিত করে নিচ্ছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী সবিতা আগরওয়াল বলেন, তৃণমূল সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলাররা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমাদের দরজা সবার জন্যই খোলা। তৃণমূলে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা বুঝে গিয়েছেন তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকটে। তাই তাঁরা বিজেপিতেই যোগদান করবেন।

- Advertisement -

এদিকে, দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা বিধায়ক শংকর মালাকার তৃণমূল কংগ্রেসে যাচ্ছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে খবর। শংকরবাবু এই সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিলেও শিলিগুড়িতে খবর, তৃণমূলের তরফে শংকর মালাকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি যদি তৃণমূলে যোগ দেন তবে তাঁকে মন্ত্রিত্বও দেওয়ার পাশাপাশি জেলা তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে শংকর মালাকার বলেন, বহুদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রস্তাব আসছে। আমার সঙ্গে অনেকের কথাও হয়েছে। তবে আমি কংগ্রেস ছাড়ছি না। কংগ্রেসেই থাকব। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, আমার কাছে এরকম কোনও খবর নেই। আমাদের দলে কারা যোগদান করবেন সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করেন। তবে আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ। বিজেপির থেকে প্রচুর মানুষ আমাদের দলে আসছেন। তাই বিজেপির মতো দলকে নিয়ে আমরা ভাবি না।