গৌরহরি দাস, কোচবিহার, ১৬ এপ্রিলঃ কাউন্সিলার মারা যাওয়ার তিন বছর পেরোলেও শুধুমাত্র হেরে যাওযার ভয়ে তণমূল কংগ্রেস কোচবিহার পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট করাচ্ছে না। কোচবিহার পুরসভার বিরোধী আসনে থাকা বামফ্রন্টের পাশাপাশি জেলা বিজেপিও এই অভিযোগে সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ওয়ার্ডে কাউন্সিলার না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডের নাগরিকদেরও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি প্রশাসনেরও কোনো হেলদোল নেই বলে অভিযোগ বিরোধীদের। কোচবিহার পুরসভা অবশ্য বিরোধীদের তোলা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক সমস্ত কাজকর্ম ঠিকমতোই চলছে। বাসিন্দাদের কোনো অভিযোগ নেই। এ কারণেই ওয়ার্ডে উপনির্বাচন হয়নি। আগামী বছর পুরভোট হবে। সেই সময় এই ওয়ার্ডেও ভোট হবে বলে চেয়ারম্যান জানান। পাশাপাশি, তিনি নিজেই ওয়ার্ডটির দেখাশোনা করেন বলেও ভূষণ সিং জানান।

কোচবিহার পুরসভায় ২০টি ওয়ার্ড রয়েছে। ২০১৫ সালের পুরভোটে তৃণমূল ১০টি আসনে জেতে। বাকিগুলির মধ্যে বামেরা আটটি ও নির্দল দুটি আসনে জয়ী হয়। নির্দলদের নিয়ে তৃণমূল বোর্ড গড়ে। বর্তমানে পুরসভা তাদের দখলেই রয়েছে। ওই ভোটে বিজেপি কোনো আসনে জয়ী না হলেও ২, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থান পায়। ইতিমধ্যেই ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার সুবাদে বিজেপি গোটা জেলার পাশাপাশি কোচবিহার শহরেও সংগঠন বাড়াতে শুরু করে। ২০১৬ সালে লোকসভা উপনির্বাচনে বামেদের সরিয়ে তারা কোচবিহারে প্রথমবারের জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের তকমা পায়। শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের তকমা পাওযাই নয়, সেবারের নির্বাচনে ফলাফলে দেখা যায় তারা কোচবিহার পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডেই অন্যান্য দলের তুলনায় এগিয়ে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লোকসভা উপনির্বাচনের এই ফলাফলের পর থেকেই কোচবিহার শহরে বিজেপির বিষয়ে তৃণমূলে উদ্বেগ ছড়াতে শুরু করে। এর জেরেই ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল ৬ নম্বর ওযার্ডের কাউন্সিলার মদনগোপাল রজক মারা গেলেও তৃণমূল উপনির্বাচনের সাহস দেখায়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

বিজেপির জেলা সভাপতি মালতী রাভা বলেন, গত পুরভোটে আমরা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হেরে গেলেও আমাদের প্রার্থী শৈলেন্দ্রপ্রসাদ সাউ ৭৫৬টি ভোট পেয়েছিলেন। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মদনগোপাল রজক আমাদের প্রার্থীর থেকে মাত্র ১১২টি বেশি ভোট পেয়েছিলেন। মালতীদেবীর দাবি, লোকসভা উপনির্বাচনে কোচবিহার শহরে বিজেপির ফলাফল দেখে তৃণমূল রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বিজেপির জেলা সভাপতির কথায়, তৃণমূল জানে ওই ওয়ার্ডে ভোট করালে তাদের হার নিশ্চিত। তাই ওরা ওই ওয়ার্ডে ভোট করানোর সাহস দেখায়নি। ওয়ার্ডটিতে ভোট করাতে আমরা জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বহুবার জানিয়েছি। এমনকি, এ নিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যানকেও একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু উপনির্বাচন নিয়ে কেউই উদ্যোগী হননি। দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলার না থাকায় ওয়ার্ডের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছেন। আগামী পুরভোটে তাঁরা বিষয়টিকে ইশ্যু করবেন বলে মালতীদেবী জানান। পুরসভার বিরোধী নেতা তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মহানন্দ সাহা বলেন, কোনো ওয়ার্ডে কাউন্সিলার না থাকলে সেখানে ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন করানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু স্রেফ হেরে যাওয়ার ভয়ে তৃণমূল এখানে পুর আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভোট করাচ্ছে না।