ভোটের আগে ব্যবসায়ীদের মন জয়ের চেষ্টা তৃণমূলের

200
শেডের জমি পরিদর্শনে তৃণমূল নেতারা।

ফালাকাটা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফালাকাটায় এবার ব্যবসায়ীদের মন জয়ে উদ্যোগী হল তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, চার লেনের মহাসড়কের কারণে রাইচেঙ্গার আসাম মোড়ের ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে শেডের আবেদন জানিয়েছেন। এজন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একটি জমিও কিনেছেন। সেই জমি পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতে সোমবার আসাম মোড়ে আসেন তৃণমূলের ব্লক স্তরের নেতারা। জেলা পরিষদের মাধ্যমে সেখানে যাতে শেড তৈরি করা যায় সেই চেষ্টা করা হবে বলে শাসক দলের নেতারা এদিন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন।

ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি ৪১ কিমি রাস্তায় মহাসড়কের কাজ চলছে। ফালাকাটায় জমি সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটা কেটেছে। তাই এই এলাকায় জোরকদমে রাস্তার কাজ চলছে। এজন্য রাইচেঙ্গার আসাম মোড় এলাকার প্রায় ৮০ জন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ হতে হবে। এজন্য ব্যবসায়ী পরিবারের প্রায় ৪০০ বাসিন্দা উদ্বেগে রয়েছেন। সূত্রের খবর, সরকারি খাস জমিতে দোকান থাকায় ব্যবসায়ীরা মহাসড়কের কারণে কোনও ক্ষতিপূরণও পাননি। তাই সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এনিয়ে ফালাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির দ্বারস্থ হন। ব্যবসায়ী সমিতির তরফে আসাম মোড় ও ফালাকাটা হাটখোলায় সবজি ব্যবসায়ীদের জন্য শেড তৈরির প্রস্তাব বিডিওকে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা একই আবেদন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায়কেও জানান। এদিকে, আসাম মোড়ে রাস্তা থেকে কিছুটা দূরে একটি নীচু জমিও ব্যবসায়ীরা কিনে নেন। তাঁরা নিজেরাই জমি ভরাট করেছেন। সেই জমিতেই সরকারিভাবে শেড তৈরির দাবি উঠেছে।

- Advertisement -

এজন্য এদিন বিকেলে আসাম মোড়ে যান তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায়, ব্লক সাধারণ সম্পাদক ভোলা দাশগুপ্ত, ফালাকাটা-২ অঞ্চল সহ সভাপতি দীপক রায় প্রমুখ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফালাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নান্টু তালুকদার। জমি পরিদর্শনের পর তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুভাষ বাবু বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদ হচ্ছেন। তাঁরা নিজেরাই জমি কিনে গর্ত ভরাট করেছেন। সেখানে শেড তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। ওখানে যাতে শেড তৈরি হয় আমরাও ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এর সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ, মানুষের পাশে আমরা সব সময় আছি।’

তবে ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের তরফে প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু আসাম মোড়ের ওখানকার জমিটি হল পাট্টা ল্যান্ড। তাই ওই পাট্টা প্রাপককে এজন্য লিখিত দিতে হবে এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মাধ্যমে ওই জমি যখন সরকারিভাবে এক নম্বর খতিয়ানে আসবে তখন মার্কেটের জন্য আমাদের তরফে সব কিছু করা সম্ভব হবে।’

এ প্রসঙ্গে ফালাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নান্টু তালুকদার বলেন, ‘ওই জমির পাট্টা হোল্ডার এনওসি দিয়েছেন। জমির চরিত্রগত পরিবর্তনের বিষয়টি বিএলএলআরওকেও জানানো হয়েছে। এতে কোনও সমস্যা হবে না। আমরা আসাম মোড়ের পাশাপাশি হাটখোলার সবজি ব্যবসায়ীদের জন্যও শেড ঘরের প্রস্তাব প্রশাসনকে দিয়েছি।’ তবে ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে শাসক দলের তোড়জোড় শুরু হওয়ায় আসাম মোড়ের ব্যবসায়ীরা খুশি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ধীরেন সরকার ও নবদ্বীপ মজুমদার বলেন, ‘রাস্তার কারণে আমাদের উচ্ছেদ হতে হবে। এজন্য শেড তৈরি হলে সবাই বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পাব। তৃণমূলের নেতা ও প্রশাসন পাশে দাঁড়ানোয় আমরা খুশি।’