চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

794

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে গ্রুপ ডি পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। তাঁর বাড়ি কালিয়াগঞ্জ থানার মালগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের পালোই বাড়ি গ্রামে। টাকা ফেরতের দাবিতে শনিবার বিকালে ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান প্রতারিত বেকার যুবক যুবতীরা। পরে গ্রাম সদস্য,পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে অভিযোগ করেন প্রতারিতরা।

অভিযোগ, পালোই বাড়ির বাসিন্দা তারাপদ দেবশর্মা রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের গ্রুপ ডি পদে ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন এলাকার বেকার যুবক যুবতীদের থেকে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মতো নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে কেউই চাকরি পান নি। পরবর্তীতে টাকা চাইতে গেলে বারংবার নানা অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের ফেরৎ পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে এদিন প্রতারিত যুবক-যুবতীরা বাড়ি ঘেরাও করেন। যদিও,তারাপদ সহ বাড়ির সদস্যরা বাড়িতে তালা মেরে ফিছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যান। এর পরেই স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য শ্যামল সরকারের দ্বারস্থ হলে তিনি প্রতারিতদের থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কলাবতী বর্মনকে অভিযোগ করেন। রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে বেকার যুবক-যুবতীদের কালিয়াগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

- Advertisement -

থানার আধিকারিকদের বক্তব্য, তারাপদ দেবশর্মার বাড়ি কালিয়াগঞ্জ থানায় এলাকায়। প্রতারিতদের কালিয়াগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রায়গঞ্জ থানার গোয়াল পাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকে চার লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। আমার বাবা নেই মা এবং পরিবারের চার সদস্য দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালায়। বারবার টাকার কথা বললেও দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকে।

ইটাহার থানার দুর্গাপুরের বাসিন্দা পেশায় সংবাদপত্র বিক্রেতা (হকার) সাহেব ঘাটার বাসিন্দা তপন দেবশর্মা বলেন, এক বছর আগে চার লক্ষ টাকা দিয়েছি। এখনও চাকরি পেলাম না। আত্মহত্যা করা ছাড়া আমাদের উপায় নেই।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মী আরজিনা খাতুন বলেন, ভাইয়ের চাকরির জন্য ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এখনও চাকরি পেলও না। টাকাও পেলাম না।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের আয়া জোস্না বর্মন বলেন, “আমার ছেলেকে হাসপাতালে চাকরির জন্য তিন লক্ষ টাকা দিয়েছি। এখনও সেই টাকার সুদ টানতে হচ্ছে। টাকাও দিচ্ছে না। চাকরিও দিচ্ছে না।

মালগাঁ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শ্যামল সরকার বলেন, “চাকরি দেওয়ার নাম করে আমাদেরই এক গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বেকার যুবক যুবতীরা। সমস্ত বিষয়টি প্রধানকে জানানো হয়েছে।”

মালগাঁ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কলাবতী বর্মণ বলেন, তারাপদ দেব শর্মা তৃণমূলের কোন পদেও নেই। দলেও নেই। একই কথা বললেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য শ্যামল সরকার।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, “একটি বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী ও সংস্থায় মেডিকেল কলেজে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রচুর যুবক-যুবতীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। আমার কাছে অভিযোগ করতে এসেছিল প্রতারিতরা। কিন্তু বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা আমাদের এখানে কাজ করলেও সংস্থার সমস্যা আমাদের অধীনে পড়ছে না। তাই থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, শুধু তারাপদই নয়, তাঁর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি বিশাল দালাল চক্র। তারাপদর সঙ্গে টাকা তোলার কাজ করে শরিফত আলী নামে এক তৃণমূল নেতা। তার বক্তব্য, তারাপদ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে টাকা নিয়ে অনেককে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এদেরও ধীরে ধীরে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু, এভাবে মেম্বার, প্রধানকে বলে বেড়ালে কোনও টাকাই ফেরত পাবে না। অভিযুক্ত তারাপদকে ফোন করা হলে তাঁর ফোনের সুইচ অফ ছিল।