কোমরে বন্দুক গুঁজে জনসমক্ষে তৃণমূল নেতা! ভাইরাল ছবি

1815

বর্ধমান: বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার কিছুতেই কমছে না। এটা যে নিছক কথার কথা নয়, সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র কোমরে গুঁজে জনসমক্ষে আসা তৃণমূল নেতার ভাইরাল ছবি হওয়া থেকেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন বেআইনি। সেটা জেনেও পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল লালন কোমরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তা জনসমক্ষে প্রদর্শন করায় বিতর্কে তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আউসগ্রামের বিজেপি নেতৃত্ব।

সম্প্রতি ধার দেওয়া ২০ লক্ষ টাকা ফেরত চেয়েও না পেয়ে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে গুলি করে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আউসগ্রামের গুসকরার তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ নিত্যনন্দবাবুকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেপাজতে নেন। শনিবার পুলিশ নিত্যানন্দবাবুর বাড়ি থেকে তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশের এমন তৎপরতার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় কোমরে আগ্নেয়াস্ত্র গুঁজে নিয়ে তৃণমূল নেতা আব্দুল লালনের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি। যা নিয়ে আউসগ্রাম এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র কারোর থাকতেই পারে। তা বলে দিনেদুপুরে সেই আগ্নেয়াস্ত্র কোমরে গুঁজে নিয়ে কি ওভাবে কেউ প্রদর্শন করতে পারে!

- Advertisement -

সরকারী আইন যদিও বলছে, বৈধ অর্থাৎ লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারবিধি নিয়ে বেশকিছু নির্দেশিকা দিয়ে রেখেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ২০১৯ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও তার ব্যবহারবিধি নিয়ে ওই নির্দেশনামা জারি করেছে। সেই নির্দেশের ২০১৬ অনুচ্ছেদের ২৫ (ক) অনুযায়ী, অপরের ভীতি বা উদ্বেগ তৈরি হয় এমনভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রদর্শন করা যাবে না। এই নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নির্দেশে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এমন নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কেন আব্দুল লালনের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাপারে তদন্ত না করে চুপ রয়েছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। আউসগ্রামের গেঁড়াই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লালন এদিন বলেন, আমার লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র আছে। তবে দলীয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় আগ্নেয়াস্ত্র কোনওদিন কাছে রাখিনি। ওই ছবি অন্য কোনও সময়ের তোলা। দল ও আমার বদনাম করার জন্য কেউ ওই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল নেতা আব্দুল লালন প্রতিষ্ঠিত এবং সম্পন্ন ব্যবসায়ী। অজয় নদ থেকে বালি তোলার কারবার রয়েছে তাঁর। গত দুদিন ধরে আউসগ্রামবাসীর মোবাইলে মোবাইলে যে ছবি ঘুরছে তাতে দেখা যাচ্ছে আব্দুল লালন সাদা প্যান্ট, সাদা জামা পরে রয়েছেন। তাঁর মাথায় জড়ানো রয়েছে সাদা ফেট্টি। তিনি কারোর সঙ্গে ফোন কথা বলতে ব্যস্ত রয়েছেন। ভাইরাল হওয়া ছবিতে আরও দেখা গিয়েছে, আব্দুল লালনের আশপাশেও বেশকয়েকজন দাঁড়িয়ে রয়েছে। লালনের পিছনে রয়েছে একটি মারুতি ভ্যান। মারুতি ভ্যানের সামনে লাগানো ব্যানারের কিছুটা অংশও ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি বিলের প্রতিবাদ সংক্রান্ত লেখালেখির একাংশ ওই ছবিতে ফুটে উঠেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, গত শুক্রবার আউশগ্রাম-২ ব্লকের দেবশালা অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিল হয়। সেই মিছিলে অংশ নেওয়ার সময়েই এই ছবি তোলা হয়েছিল। যদিও আউশগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি রামকৃষ্ণ ঘোষ বলেন, দেবশালার মিছিলে আমিও ছিলাম। ওই ছবি অন্য কোনও সময়ের তোলা। দল ও লালনের বদনাম করতে কেউ এইসব করছে। আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। আউসগ্রাম-২ ব্লকের বিজেপি নেতা স্মৃতিকান্ত মণ্ডল বলেন, তৃণমূলের নেতারা কোমরে আগ্নেয়াস্ত্র গুঁজে নিয়ে ঘুরবেন এটাই প্রত্যাশিত। আউসগ্রামবাসী ওনাদের কাছ থেকে ভালো কিছু কোনওদিন আশা করেননি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচন ও পরে লোকসভা নির্বাচনের সময়েও তৃণমূলের নেতারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই দাপিয়ে বেরিয়েছেন। তৃণমূলের নেতারা দেশের আইনকানুনের কোন তোয়াক্কা করেন না।