সুপারি কিলার দিয়ে তৃণমূল নেতা খুন, গ্রেপ্তার দলেরই ৩ কর্মী

96

বর্ধমান: পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কাই সত্যি হল। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের দেবশালা অঞ্চলের তৃণমূল যুব নেতা চঞ্চল বক্সিকে খুনের ঘটনায় দলেরই তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আশানুল মোল্লা, মনির হোসেন মোল্লা এবং বিশ্বরূপ মণ্ডল। ধৃতরা দেবশালা অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে আশানুল ও মনির দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। আর বিশ্বরূপ মণ্ডল তৃণমূলের দেবশালা অঞ্চল সভাপতি হিমাংশু মণ্ডলের ছেলে। রবিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন। সুপারি কিলাদের দিয়েই যে তৃণমূল যুব নেতাকে খুন করা হয়েছে, সেই বিষয়ে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা কার্যত নিশ্চিত। সোমবার ধৃত তিনজনকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। সিজেএম ধৃতদের ৭ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার আউসগ্রাম ২ ব্লকের গেঁড়াইয়ে দলীয় বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ব্লকের দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল বক্সি ও তাঁর ছেলে চঞ্চল বক্সি (৪৪)। বৈঠক শেষে দুপুর ৩টে নাগাদ বাবা ও ছেলে একটি বাইকে চেপে দেবশালা গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। বাইক চালাচ্ছিলেন চঞ্চল। গেঁড়াই-মানকর রোডে উলুগড়িয়া জঙ্গলের কাছে দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালায়। এতে শ্যামলবাবু বাইক থেকে পড়ে যান। চঞ্চলের বুকে ও হাতে তিনটি গুলি লাগে। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা জামতারা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক চঞ্চলবাবুকে মৃত ঘোষণা করেন।

- Advertisement -

বুধবার চঞ্চলবাবুর ভাই রাহুল বক্সি পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দাদাকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আউশগ্রাম থানার পুলিশ মামলা রুজু করে। তদন্তের জন্য দুই বর্ধমান জেলার পুলিশকে নিয়ে সিট গঠন করা হয়, শুরু হয় তদন্ত। পাশাপাশি সিআইডির গোয়েন্দারাও ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ নিহতের বাবার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে খুনের ঘটনায় কারা জড়িত থাকতে পারে সেই ব্যাপারে একটা ইঙ্গিত পায়। এরপরই আশানুল মোল্লা, মনির হোসেন মোল্লা ও বিশ্বরূপ মণ্ডলের ফোনের টাওয়ার লোকশন, রিপিটেড কল-সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে। তা দেখার পর পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা সুপারি কিলার দিয়ে তৃণমূল নেতা চঞ্চল বক্সিকে খুনের কথা স্বীকার করে। রবিবার রাতে আউশগ্রাম থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, তৃণমূল নেতাকে খুনের ঘটনায় দলেরই তিন কর্মী গ্রেপ্তার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আউশগ্রামের রাজনৈতিক মহলে। চঞ্চলবাবুর বাবা শ্যামল বক্সি ঘটনার শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, তাঁর ছেলেকে বিজেপি বা সিপিএমের কেউ খুন করেছে বলে তিনি মনে করেন না। খুনিরা সমাজ বিরোধী হতে পারে, আবার তৃণমূলের কেউও হতে পারে। তাঁর দাবিই সত্যি হল।

গত বৃহস্পতিবার চঞ্চল বক্সির বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি তথা আউশগ্রামের পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডল। সেদিন অনুব্রত নিদান দেন, চঞ্চল বক্সিকে খুনের ঘটনায় দলের কেউ যুক্ত থাকলে তাঁকে গুলি করে মেরে দেওয়া উচিত। এখন বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে কি অনুব্রত তাঁর ঘোষিত নিদান অনুযায়ী এবার ধৃতদের গুলি করে মারবেন?