স্বামীর মৃত্যুতে দায়ী দলীয় বিধায়ক! মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ জানাবেন তৃণমূল নেত্রী

228

বর্ধমান: স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক। এহেন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেত্রী কনিকা রাজবংশী। লিখিতভাবে বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান মহকুমা শাসকের কাছে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের কালনা পৌরসভার এলাকার। ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অন্যদিকে, প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেত্রীর তরফে এহেন অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসেচে স্থানীয় প্রশাসন। কালনার মহকুমাশাসক সুমন সৌরভ মহান্তি জানিয়েছেন, তিনি এখনও অভিযোগপত্র হাতে পাননি। অভিযোগপত্র পেল তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালনা পৌরসভার শ্যামগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা কনিকা রাজবংশী। তিনি কালনা পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার। তাঁর স্বামী সোমনাথ রাজবংশী ওই ওয়ার্ডে দলের যাবতীয় কাজকর্ম দেখভাল করতেন। কনিকাদেবী বলেন, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে দলের ফল আশানুরূপ হয়নি। ওই ওয়ার্ডে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট তৃণমূলের থেকে বেশী। ঘটনায় তাঁর স্বামীকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। কনিকাদেবীর কথায়, গত ৫ জুন কালনার নবনির্বাচিত বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ তাঁর স্বামীকে স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানে সকলের সামনে তাঁর স্বামীকে অপমান
করেন বিধায়ক। এমনকি তাঁর স্বামীকে বিজেপির দালাল এবং বিজেপির কাছ থেকে টাকা খেয়ে দলকে হারানোর অপবাদও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তুলে ধরেন কনিকাদেবী।

- Advertisement -

বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কনিকা রাজংবশী বলেন, ‘বাড়িতে লোক পাঠিয়ে হামলা চালানো হবে বলেও আমার স্বামীকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিধায়কের তরফে এহেন দুর্ব্যবহার ও হুমকির জেরে ৭ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হন আমার স্বামী। পরদিন তিনি মারা যান। কনিকাদেবীর অভিযোগ, ‘হমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের
জেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্বামী মারা গিয়েছেন।

যদিও সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ বলেন, ‘সোমনাথ রাজবংশী বেশ কয়েকবছর ধরেই হার্টের রোগে ভুগছিলেন। তাঁর চিকিৎসার জন্যে দলীয় ভাবে সাহায্যও করা হয়েছিল।’ তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সহ তাঁকে বদনাম করার জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এসবের পেছনে বিজেপির ইন্ধন রয়েছে বলেই তিনি মনে করছেন।