অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের

927

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল অঞ্চলের নব নির্বাচিত অঞ্চল তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে ব্লক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করলেন এলাকার আদি তৃণমূল নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার বিন্দোল অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির আহ্বায়ক বুদ্ধদেব বর্মণের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতৃত্ব রাতের অন্ধকারে অনৈতিকভাবে অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি হিসেবে শ্যামল সমাদ্দারকে নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যাপারে সরব হন। একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাক্তিকে অঞ্চল সভাপতি হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়ায় তাঁরা পিকে টিমের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতার অভিযোগ আনেন।

যদিও রায়গঞ্জ ব্লক-২ তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সত্যজিৎ বর্মণ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন বুথ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই শ্যামল বাবুকে অঞ্চল সভাপতি হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি আগেও সভাপতি ছিলেন।

- Advertisement -

বুদ্ধদেববাবু বলেন, ‘১৯৯৮ সাল থেকে আমরা তৃণমূল করছি। বিন্দোল মাদ্রাসা নির্বাচন আমার নেতৃত্বে হয়। আমরা ৬ টি আসনের মধ্যে ৫ টি আসন জয়লাভ করি। অথচ আমাদেরকে অন্ধকারে রেখে বারবার দলত্যাগী ও দুর্নীতিগ্রস্তকে অঞ্চল সভাপতি হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়া হল। শ্যামলবাবু বিন্দোল অঞ্চল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। কংগ্রেসের সঙ্গে বেইমানি করে এমএসকে-এর চাকরীর লোভে তৎকালীন সিপিএমের দেবেন্দ্র নাথ বর্মণের হাত ধরে সিপিএমে যোগ দেন। ২০১৬ সালে দেবেন বাবুর সঙ্গে বেইমানী করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। দেবেনবাবুর হাত ধরে এমএসকে চাকুরী নেওয়ার পর দেবেনবাবুর স্ত্রীকে প্রধান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য অনাস্থা আনেন।‘

এদিন আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিজের বুথে বিজেপি করেন। ২০১৯ বিন্দোল মাদ্রাসা ভোটে শ্যামলবাবু তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করেন। যদিও অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শ্যামল সমাদ্দার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।‘

তিনি জানান, বুদ্ধদেববাবু দলের কোনো পদে নেই। তাই তাঁর অভিযোগের ভিত্তি নেই। যদিও বুদ্ধদেববাবু আরও বলেন, ‘শ্যামলবাবু তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে বিএড কলেজের অংশীদার হয়েছেন, তাঁর প্রথম স্ত্রীর নামে বিন্দোলে পেট্রোল পাম্প এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে রায়গঞ্জে ৫০ লক্ষ টাকার বাড়ি, নতুন বোলেরো গাড়ি ও ছেলেকে কলকাতার নামী স্কুলে প্রচুর টাকা খরচ করে পড়াচ্ছেন। অথচ ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস করে একটি বাইক কিনতে পারিনি। আমাদের প্রশ্ন, শ্যামলবাবু দশ হাজার টাকার চাকুরী করে এত টাকার সম্পত্তির মালিক কি করে হলেন?’

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের আরও অভিযোগ, শ্যামলবাবুর স্ত্রী অঙ্গনওয়ারীর ডাল বি তরণে ধরা পড়ে ও পাঁচ বিঘা জমি হিন্দু শ্মশানের জমি দখল করেন। সেইসঙ্গে বিন্দোল পঞ্চায়েতের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে যারা যুক্ত তাদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন শ্যামলবাবু। বিন্দোল অঞ্চলের তৃণমূল নেতা তথা মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির প্রাক্তন সম্পাদক আনিসুর রহমান, প্রাক্তন ব্লক যুব সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিন্দোল হাই স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণ এদিন ব্লক তৃণমুল কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হন।

তাদের অভিযোগ, দল টাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য দুর্নীতিগ্রস্তদের পদে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁরা পিকে টিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে হেমতাবাদ আসনে দলীয় প্রার্থীর জয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এদিন ব্লক তৃণমূল সভাপতি সত্যজিৎ বর্মণ বলেন, ‘শ্যামলবাবুর বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ থাকে তাহলে প্রমাণ দিতে হবে। আমরা চাই এক সঙ্গে সকলে কাজ করুক। এখন যদি কেউ বিদ্রোহ করে তাহলে আমার কি করার আছে।‘

শ্যামলবাবুর দাবি করে জানান, বুদ্ধদেববাবু পদ হারিয়ে প্রলাপ বকছেন। দলের কোনো দায়িত্বে তিনি নেই। তবে দল করেন। ওনার দলের বড় বড় পদ দরকার। আমি তো অঞ্চল সভাপতি আমার পক্ষে সেই বড় পদ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই হয়ত এইসব উলটো পালটা বলছেন।

অঞ্চল সভাপতির পরিবর্তন চেয়ে জেলা সভাপতি কানাইয়া লাল আগরওয়ালা এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাবেন বলে জানাবেন তাঁরা জানান।