বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল বিধায়ক, গ্রামবাসীদের হস্তক্ষেপে নিস্তার

553

সিউড়ি: দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এলাকার বিধায়করা নিজের বিধানসভা এলাকায় ঘুরতে শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুবরাজপুর ব্লকের লক্ষ্মীনারায়নপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামপুর গ্রামে যান তৃণমূল বিধায়ক নরেশ বাউড়ি। সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক সেরে বের হতেই গ্রামের বাসিন্দা মনোজ সাহা অনুন্নয়ন নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এরপরেই বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামেরই মানস গড়াই, হৃদয় মণ্ডলরা।

তাদের দাবি পাঁচ বছর আগে উন্নয়নের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা এখনও পেলাম না। এখনই সেই টাকা দেওয়া হোক। বিক্ষোভ চলাকালীন সেখানে এসে পৌছোন গ্রামের পারুল ডোম, বুড়ো হাজরা, মানিক গোপরা। তাদের মধ্যে কেউ বার্ধক্যভাতা কেউ বা বিধবা ভাতার জন্য বিধায়কের কাছে আবেদন করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তাঁরা সেই ভাতা পাননি। প্রতিবাদে দীর্ঘক্ষণ বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁরা বলেন, ‘ভোটের আগে বিধায়ক এসেছিলেন। তারপর আর দেখা নেই। রাস্তাঘাট অনুন্নত। গ্রামের মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত।‘

- Advertisement -

নরেশ বাউড়ি বলেন, ‘২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই গ্রাম থেকে সাংসদ শতাব্দী রায় ২৪ ভোটে এগিয়েছিল। এরপর ২০১৬ সালের লোকসভা এবং ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই গ্রামে হেরেছি। গ্রামের বাসিন্দা মনোজ সাহা বিজেপি করে। তার ইন্ধনেই এসব হয়েছে।‘

যদিও মনোজের অভিযোগ, ‘উন্নয়ন বলতে কিছু হয়নি। সরকারি ঘর নির্মাণে কাটমানি দিতে হচ্ছে। সামান্য সরকারি সুবিধা পেতে ফর্ম ফিলাপের জন্যও তৃণমূলের নেতাদের টাকা দিতে হচ্ছে। পাঁচ বছর বিধায়কের কোন দেখা নেই। তাই গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।‘

এদিন পঞ্চায়েত প্রধান বিনয় বাগদি বলেন, ‘ওই গ্রামে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তাঁরা বিজেপির লোক।‘ দুবরাজপুরের বিডিও অনিরুদ্ধ রায় বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘