রেলের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়, বিতর্ক

110

আসানসোল: পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের সীতারামপুর স্টেশনে আপার ক্লাস ওয়েটিং হল বা উচ্চ শ্রেণির প্রতিক্ষালয় ও নবনির্মিত স্টেশন শৌচালয় কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল সোমবার দুপুরে। অনুষ্ঠান মঞ্চের ফ্লেক্সে উদ্বোধক হিসাবে নাম ছিল আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র। বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম ছিল কুলটির তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের। সেই মোতাবেক মঞ্চে তাঁর নামে নির্দিষ্ট চেয়ারও রাখা হয়েছিল। যদিও অনুষ্ঠানে যোগ দেননি কুলটির বিধায়ক। এতেই শুরু বিতর্ক।

এদিন বাবুল সুপ্রিয় বক্তব্য রাখতে মঞ্চে উঠতেই অনুষ্ঠানে আসা বিজেপির নেতা ও কর্মীরা জয়শ্রী রাম ধ্বনি তোলেন। বাবুল তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এখানে সব অধিকার আছে নিজের মতো ধর্মাচারণ করার। এই যে এদিনের অনুষ্ঠানে কুলটির বিধায়ককে ডাকা হয়েছিল। তার নামে চেয়ারও রাখা হয়েছিল। জয়শ্রী রাম ধ্বনির জন্য তিনি আসেননি। তবে রেলের তরফে বিধায়কের চেয়ারে একটা পুষ্পস্তবক ও জলের বোতল রেখে দিলাম। পরে সময় করে বিধায়ক স্টেশনে এসে নিয়ে যাবেন আশা করি। কারণ তিনি এই স্টেশন নিশ্চয়ই ব্যবহার করেন৷ এছাড়াও জানি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মন্ত্রীরা মানুষের ভালো কাজে কোনদিনই ছিলেন না৷’ তার দাবি, অনেকে এখন জয়শ্রী রাম ধ্বনি শুনলেই রেগে যাচ্ছেন। তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা এবার রামকার্ড নিয়েই খেলব। তাঁর কথায়, আমাদের উদ্দেশ্য মানুষকে ভালো পরিষেবা দেওয়া। তারজন্য প্রতিটি স্টেশন সুন্দর হওয়া দরকার। যাতে স্টেশনে এসে সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা না হয়।

- Advertisement -

অন্যদিকে, কুলটির বিধায়ক বলেন, ‘আমি জয়শ্রী রাম ধ্বনিতে ভয় পাই না। কার্ডে ও ফ্লেক্সে নাম থাকলে কি হবে। আমাকে তো রেল নিমন্ত্রণই করেনি। তাই যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।’

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যে পরিবর্তন চলছে। চলবে। কেউ তা আটকাতে পারবেনা। আমাদের রথ এগোবে। কোথাও এই যাত্রা হবে গাড়িতে। কোথাও মোটরসাইকেলে। আবার কোথাও তা হবে মানুষের। কিছু কিছু জায়গায় দিদির পোষা গুণ্ডারা তাঁর অনুপ্রেরণায় এই যাত্রা আটকানোর চেষ্টা করছে ও গন্ডগোল করছে। পরিবর্তনের মানে বাংলার মানুষেরা বুঝে গেছেন। তাঁরা তা করতে বদ্ধপরিকর।’ অন্যদিকে কয়লা পাচার মামলায় রাজ্য পুলিশের সিআইডির তদন্ত করা নিয়ে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘ঐসব করে লাভ নেই। যারা জেলে ঢোকার তারা ঢুকবেই।’ জিতেন্দ্র তেওয়ারির প্রসঙ্গে এদিন বাবুল বলেন, উনি দিদির কাছে ভালোই তো আছেন। তাঁকে থাকতে দিন। আমি দাদার( প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) হয়ে বাংলায় বিজেপির সরকার আনার জন্য যা করার করছি। তবে জিতেন্দ্র তেওয়ারি যা বলেছেন, তা যে সত্যি তা সবাই বুঝে গেছেন।’

এদিন সীতারামপুর স্টেশন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন বাবুল সুপ্রিয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন আসানসোলের ডিআরএম সুমিত সরকার।