ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি তৃণমূল ত্যাগী সাংসদের

78

বর্ধমান: মনোনয়ন দাখিল কেন্দ্রে ঢুকতে না পেরে কর্তব্যরত নির্বাচন কমিশনের আধিকারিককে হুমকি দিলেন তৃণমূল ত্যাগী সাংসদ সুনীল মণ্ডল। আর তো কটা দিন, তারপর ইন্সট্রাকশন তো আমরাই দেব, এমনটাই হুমকি দেন তিনি। কর্তব্যরত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে সুনীল মণ্ডলের এভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদের সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মানিক রায় মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য বর্ধমান দক্ষিণ মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছান। নির্বাচন কমিশনের লাগু করা নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীর সঙ্গে অতিরিক্ত আরও দু‘জন মনোনয়ন দাখিল কেন্দ্রে ঢুকতে পারেন। বিজেপি প্রার্থী সেটাই করেন। এর বেশ কিছুটা সময় বাদ সাংসদ সুনীল মণ্ডল সেখানে পৌঁছে মনোনয়ন দাখিল কেন্দ্রে ঢুকতে চান। তা নিয়ে আপত্তি তোলেন কর্তব্যরত প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাঁরা সুনীল মণ্ডলকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেন।

কর্তব্যরত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ভগীরথ হালদার সুনীল মণ্ডলকে বলেন, ‘প্রার্থীর সঙ্গে যেহেতু দু’জন ভিতরে যেতে পারবেন তাই একজন বেরিয়ে এলে আপনি ভিতরে যেতে পারবেন। প্রশাসনের এই তৎপরতা মেনে নিতে পারেননি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাংসদ সুনীল মণ্ডল। এরপর সাংসদ সুনীল মণ্ডল পুলিশের সামনেই ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকির সুরে বলেন, ‘আর তো কটা দিন তারপর ইন্সট্রাকশন আমরা দেব। তখন দেখা যাবে।’

- Advertisement -

তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের কাঁধে চেপে সুনীল মণ্ডল সাংসদ হয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি এখন আবার রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের হুমকি দিচ্ছেন। ক্ষমতাতেই আসতে পারেনি তাতেই নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে ধমকাচ্ছেন। আগামী দিনে যদি এরা বাংলায় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায় তাহলে ওরা বাংলার কি হাল করবে তা বাংলার মানুষ বুঝতেই পারছেন।’

যদিও এই অভিযোগের পালটা সুনীল বাবু বলেন, ‘আমাকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। আইন সবার জন্য এক হওয়া উচিৎ। শাসক দলের ক্ষেত্রে এরকমটা হয়না।’