ব্লক-অঞ্চল-ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে কোচবিহারে তৃণমূলে বিদ্রোহ 

228

কোচবিহার: ২০২১-এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে সব দল। ভোটের আগে কোচবিহারে তৃণমূলের দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। এতে অস্বস্তিতে দল।

তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কোচবিহারে দলের অনেক নেতাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দলের বেশ কিছু বিধায়কও জেলা নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ। যদিও এতদিন সেই সবকিছু ছিল ব্যক্তিগত পর্যায়ে। কিন্তু ৬ জানুয়ারি তৃণমূলের জেলা সভাপতি ছয়টি ব্লক ও অঞ্চল কমিটি ঘোষণা করতেই কোচবিহার জেলা তৃণমূলে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। এব্যাপারে দলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘এই বিষয়ে যথাযোগ্য স্থানেই সবকিছু বলব।‘

- Advertisement -

কমিটি নিয়ম মেনে করা হয়নি, এমন অভিযোগ তুলে নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া দলের একাধিক ব্লক ও অঞ্চল স্তরের নেতা তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আবার কমিটি ঘোষণার পরপরই তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের সভাপতি ধনেশ্বর বর্মন সেই কমিটিকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে তাঁর ব্লকের ১১টি অঞ্চলে পালটা কমিটি ঘোষণা করেন। যা নিয়ে জেলায় দলের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার কোচবিহার-১ ব্লকের নতুন কমিটির দায়িত্ব পাওয়া দলের একাধিক নেতা ও ব্লকের পুরোনো কয়েকজন নেতা পদ থেকে ইস্তফা দেন।

অপরদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কোচবিহার-১ ব্লক সভাপতি তথা জেলা সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়াঁ দলের জেলা সভাপতিকে দল থেকে কার্যত গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন। সকলকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। সবমিলিয়ে ব্লক কমিটি ঘোষণা নিয়ে কোচবিহার জেলা তৃণমূলে কার্যত বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিদ্রোহ দমিয়ে দলের জেলা সভাপতিকে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। তা না পারলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ভালো ফল করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়।