বামেদের উদ্যোগে পড়ুয়াদের পরীক্ষায় আপত্তি তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের

301

রাঙ্গালিবাজনা: করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। তার ওপর পঠনপাঠনও শিকেয়। তাই পড়ুয়াদের পঠনপাঠন ও পরীক্ষার অভ্যাস বজায় রাখতে শুক্রবার আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও ২ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর প্রায় ১৭০ জন পড়ুয়ার পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করল ডিওয়াইএফআই ও এসএফআইয়ের ফালাকাটা ২ নম্বর লোকাল কমিটি। এদিন বাংলা, ইংরেজি ও অংক বিষয়ের প্রত্যেকটির ওপর ৪০ নম্বরের পরীক্ষা বা সামেটিভ ইভালুয়েশনের আয়োজন করা হয়। রেড ভলান্টিয়ার্সের সহযোগিতায় তাঁরা একাজ সম্পন্ন করেন। পড়ুয়ারাও অনেকদিন পর পরীক্ষা দিতে পেরে খুশি।

এদিকে, রাজ্য সরকার তথা শিক্ষা দপ্তর সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখলেও একটি রাজনৈতিক দলের অনুমোদিত ছাত্র ও যুব সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে পরীক্ষা। এইনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল অনুমোদিত শিক্ষক সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। এই বিষয়ে সংগঠনের ফালাকাটার ব্লক সাধারণ সম্পাদক সফিউর রহমান, জেলা সহসভাপতি জয়ব্রত ভট্টাচার্য প্রমুখ জানান, পঠনপাঠন, পরীক্ষা সবই প্রয়োজন হলেও সবার আগে বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করা উচিত। করোনা সংক্রমণ থেকে শিশুদের বাঁচাতে জমায়ের এড়ানোর জন্য স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে এভাবে জমায়েত করে পরীক্ষার ব্যবস্থা অনভিপ্রেত। তবে আয়োজকদের দাবি, সম্পূর্ণ কোভিড প্রটোকল মেনে পড়ুয়াদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিওয়াইএফআইয়ের ফালাকাটা ২ নম্বর লোকাল কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফার বক্তব্য, রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। আংশিকভাবে অফিস আদালত সবকিছু খোলা। বন্ধ শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাতিল করল। অথচ সরকার ইচ্ছে করলেই তা নিতে পারত। কেরলে পরীক্ষা হয়েছে। এইরাজ্যে সরকারের ইচ্ছার অভাবেই পরীক্ষা হল না।

- Advertisement -