গাজোলে পঞ্চায়েতের দখল নিল তৃণমূল, বিজেপিতে কোন্দল

56

গাজোল: বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে একের পর এক পঞ্চায়েত হাতছাড়া হচ্ছে বিজেপির। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের গড় বলে পরিচিত গাজোল-২ গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছিল বিজেপি। ১৩ টির মধ্যে ১২ টি আসন দখল করেছিল তারা। ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এদিন বিক্ষুব্ধ বিজেপি সদস্যদের দলে টেনে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত আবার দখল করল তৃণমূল। এর জেরে বিজেপির মধ্যে তীব্র গোষ্ঠী কোন্দল দেখা দিয়েছে। বিজেপি জেলা সভাপতির উপর এর সমস্ত দায় চাপিয়ে যুব মোর্চার সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করতে চলেছেন যুবনেতা নিহাররঞ্জন মণ্ডল। একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজনৈতিক মহল কে অবাক করে দিয়ে গাজোল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। ১৩ টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন যায় বিজেপির দখলে। তৃণমূল পায় মাত্র একটি আসন। তবে প্রধান নির্বাচন নিয়ে প্রথম থেকেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল বিজেপির জয়ী সদস্যরা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিজের দলের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন বিজেপির বিক্ষুব্ধ ৬ জন সদস্য। তাদের সমর্থন করে তৃণমূলের একমাত্র সদস্য। একজন সদস্য মারা যাওয়ায় বর্তমানে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্য সংখ্যা ১২ জন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সভায় উপস্থিত হননি প্রধান সহ অন্যান্য সদস্যরা। যার ফলে সহজেই পাশ হয়ে যায় অনাস্থা প্রস্তাব। এদিন ছিল নতুন প্রধান গঠনের কাজ। প্রধান গঠনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে। মোট ১২ জন সদস্যের মধ্যে এদিন উপস্থিত ছিল ১১ জন সদস্য। নতুন প্রধানের পক্ষে ভোট দেন ৬জন সদস্য, বিপক্ষে ভোট দেন ৫জন। ভোটাভুটির জেরে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর দিপালী রায়। পরে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সমস্ত সদস্য যোগ দেন তৃণমূলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির হাত থেকে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেদের গড়ে আবার আধিপত্য কায়েম করতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সম্পাদক তথা মুখপাত্র গৌর চক্রবর্তী জানালেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এলাকার মানুষদের ভুল বুঝিয়ে জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এলাকায় উন্নয়নের কাজ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এই বোর্ড। এবার থেকে এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ হবে।

- Advertisement -

এদিকে বিপুল মানুষের সমর্থন পেয়ে বোর্ড গঠনের পরেও যেভাবে হাতছাড়া হয়ে গেল তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ বিজেপির যুব নেতা নিহাররঞ্জন মণ্ডল। ওই যুবনেতা জানান, এলাকার মানুষের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তৃণমূলের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওই এলাকার মানুষ দুহাত ভরে আমাদের ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে কিছু সদস্য মোটা টাকার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে দিলেন। মানুষ এদের ক্ষমা করবে না। এর সমস্ত দায় নিতে হবে দলের জেলা সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে। জেলা সভাপতি তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেন না। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগপত্র জেলা সভাপতির কাছে পাঠিয়ে দেবেন। তবে আমি বিজেপি ছাড়ছেন না বলেই জানান তিনি।