পশ্চিমবঙ্গকে গ্রেটার বাংলাদেশ বানাতে চাইছে তৃণমূল, দাবি দিলীপের

141

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গকে তৃণমূল গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করতে চাইছে। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এমনই দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, তৃণমূল যে জয় বাংলা ধ্বনি দেয় তা ইসলামিক বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান। পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না লেখা হলেও বলা হয়েছে মাননীয়া লড়ছেন গ্রেটার বাংলাদেশের লক্ষ্যে। এই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, এখন বিজেপি দলটাই গ্রেটার তৃণমূল হয়ে গিয়েছে। সেই হতাশার প্রকাশ দিলীপবাবুর পোস্ট। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, দিলীপবাবুর মন্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রযোজন আছে বলে মনে করি না।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠানে জয় শ্রীরাম ধ্বনিকে কেন্দ্র করে অসন্তুষ্ট মমতা ভাষণ না দিলেও প্রতিবাদ জানানোর পর তিনি জয় বাংলা বলেন। তারপরেই বিজেপি এই নিয়ে সরব হতে শুরু করেছে। তৃণমূলের গ্রেটার বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য রয়েছে বলে আক্রমণের যুক্তি হিসেবে দিলীপবাবু তাঁর পোস্টে তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। ভিক্টোরিয়ায় মমতার বাংলাদেশি স্লোগান নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, অতীতে তৃণমূলের প্রচারে বাংলাদেশি অভিনেতা ও তৃণমূলের উদ্যোগে পুজোয় বাংলাদেশের ক্রিকেটারকে আনা হয়েছিল। গত লোকসভা ভোটে বাংলাদেশের অভিনেতা ফিরদৌস রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন। তা নিয়ে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানায়। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ফিরদৌসকে কালো তালিকাভুক্ত করে। তখন দিলীপবাবু মন্তব্য করেছিলেন, এবার তৃণমূল প্রচারে ইমরান খানকে নিয়ে আসবেন।

- Advertisement -

ওই প্রসঙ্গ আবার দিলীপবাবু টেনে এনেছেন। বিজেপির উদ্বাস্তু শাখার রাজ্য আহ্বায়ক মোহিত রায় বলেন, জয় বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান। তোষণ রাজনীতি করার জন্যই তৃণমূল ওই স্লোগান ব্যবহার করছে। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যও এই ইস্যুতে মাঠে নেমে পড়েছেন। তিনি বলেন, জয় বাংলা মুজিবর রহমানের স্লোগান। এখনও বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণেই এই স্লোগান ব্যবহার হয়। এখানে মাননীয়া কেন এই স্লোগান ব্যবহার করছেন তা সবাই বুঝতে পারছেন।

যদিও তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, দুই বাংলা একসময় এক ছিল। এখনও দুই বাংলার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির মিল রয়েছে। তাই স্লোগানে মিল থাকা অস্বাভাবিক কোথায়? বিজেপি নিজেদের হতাশা থেকে এইসব কথা বলছে।