উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করবে তৃণমূল

386

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : গত লোকসভা ভোটে পিছিয়ে থাকা উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রে এবার প্রার্থী বদল করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই কেন্দ্রগুলিতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রাজনৈতিক প্রার্থী দাঁড় করিয়ে জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে গত বিধানসভায় জেতা প্রার্থীদের কয়েকজনকে অন্য কেন্দ্রে দাঁড় করানো হলেও বাকিদের এবার টিকিটই দেবেন না তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁদের অন্য কেন্দ্রে প্রার্থী করে পাঠানো হবে তাঁদের ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলিতে মনোনিবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী। তৃণমূল সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের কয়েকজন বিধায়কের কাজে দলনেত্রী একেবারেই সন্তুষ্ট নন। এর আগে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে দলনেত্রী বহুবার তাঁদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সতর্ক হওয়া তো দূরের কথা, দলীয় গোষ্ঠী রাজনীতিতে তাঁরা অনেক বেশি জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাতে দলের সংগঠনের ক্ষতি হয়েছে।

কিছুদিন আগেই উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলনেত্রীকে রিপোর্ট দিয়েছেন। ওই রিপোর্টেই কয়েকজন বিধায়কের কাজের পাশাপাশি সাংগঠনিক দুর্বলতার কথাও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে দলনেত্রী এই নিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। সেখানে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের এবার বিধানসভা ভোটে যে টিকিট দেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, ওই বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে যাঁদের প্রার্থী করা হবে বলে আপাতত ভাবা হয়েছে, তাঁদের এখন থেকেই মাঠে নামতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এলাকায় প্রচারাভিযান কীভাবে চালাবেন, কারা তাঁদের সাহায্য করবেন, সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট গাইডলাইনও পিকের টিম জানিয়ে দিয়েছে। তাঁরা এলাকায় প্রচার শুরু করার পর ওইসব এলাকায় সাংগঠনিক পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়, তার দিকেও পিকের টিম নজরদারি চালাচ্ছে।

- Advertisement -

কয়েকটি কেন্দ্রে বিধায়কদের কাজকর্ম ভালো থাকলেও তাঁদের বিভিন্ন কারণে অন্য কেন্দ্রে পাঠাতে হচ্ছে। কয়েকটি কঠিন কেন্দ্রে ওই প্রার্থীদের পাঠানো হবে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছেন, ওই কেন্দ্রগুলিতে যোগ্য বিধায়কদের পাঠালে আসনগুলি ধরে রাখা সম্ভব হবে। তা না হলে ওই কেন্দ্রগুলি হারাতে হবে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের এক তরুণ বিধায়ককে নতুন জায়গায় প্রার্থী হওয়ার কথা দলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, তাঁর কাজ ভালো হলেও ওই কঠিন কেন্দ্রে অন্য প্রার্থী দাঁড় করালে দলের পক্ষে জয় হাসিল করা সম্ভব নয়। তৃণমূল সূত্রে খবর, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি নিয়ে তৃণমূলের খুব বেশি চিন্তা নেই। কিন্তু মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর ও আলিপুরদুয়ার নিয়ে তৃণমূলের দুশ্চিন্তা সম্পূর্ণ কাটেনি। তাই এই তিন জেলায় প্রার্থী বাছাইয়ের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে বুথ ভিত্তিক পর্যালোচনা করে তবেই প্রার্থী ঠিক করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দলনেত্রী প্রার্থী তালিকার খসড়া তৈরি করে রাখলেও তা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না। দলের আর কেউ বিজেপিতে যায় কিনা তা দেখে তবেই চড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন।

তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় বলেন, গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট ঘোষণার দিনই আমাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিলেন দলনেত্রী। এবারও দলনেত্রী সঠিক সময়ে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন। কাকে প্রার্থী করা হবে, কে দলে টিকিট পাবেন, তা দলনেত্রী ঠিক করে রেখেছেন। তবে এবার অনেক বাছাই করেই প্রার্থী নির্বাচন করবে দল। তৃণমূল সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলনেত্রী ইতিমধ্যেই ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা করেছেন। এবারের নির্বাচনে তাঁর পাখির চোখ যে উত্তরবঙ্গ তা তাঁর বিধানসভায় পেশ করা বাজেটেই স্পষ্ট। সেইমতোই প্রার্থী তালিকায় বেশকিছু চমক তিনি দিতে পারেন। তৃণমূল গত লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে খুবই খারাপ ফল করেছিল। এবার ৫৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ৩০টি দখলের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে ঝাঁপাতে উত্তরবঙ্গের নেতাদের দলনেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। সামান্য কিছু ক্ষোভ সামাল দেওয়া ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে পারলেই ভালো ফল হওয়া যে অসম্ভব নয়, তা পিকে দলনেত্রীকে অঙ্ক কষে বুঝিয়েছেন। সেই কারণেই এবার উত্তরবঙ্গের প্রার্থী তালিকায় বেশ কিছু কেন্দ্রে বদল নিশ্চিত।