মিম’কে রুখতে দলীয় সভায় সংখ্যালঘুদের আমন্ত্রণ জানাবে তৃণমূল

673

মুরতুজ আলম,সামসী: ২০২১ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-মিম’কে রুখতে দলীয় সভায় জেলার সব মুসলিম সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানাবে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানাল মালদার সামসী টিএমসি সংখ্যালঘু সেল। এদিন সেলের কার্যকরী সভাপতি ও মালদা জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, প্রতি ব্লকের অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মাদ্রাসার আলেম, ওলামা, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও সুশীলসমাজকে দলীয় সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।

তিনি একই সঙ্গে জানান, যারা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, অথচ সংখ্যালঘু সমাজে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের আলোচনায় ডেকে মত বিনিময় করব। তাদের যদি কোনও ক্ষোভ থাকলে তা নিরসনে সংখ্যালঘু সেল যোগসূত্র হিসাবে কাজ করবে।

- Advertisement -

এদিন, রতুয়ার সামসীতে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ও ২, চাাঁচল-১ ও ২ এবং রতুয়া-১ ও ২ মিলিয়ে ছয়টি ব্লকের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ও জেলা নেতৃত্ব আলোচনায় বসেন। সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি মোশারফ হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেলের কার্যকরী সভাপতি ও মালদা জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন-সহ সভাপতি আতাউর রহমান,সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আসিফসহ আরও অনেকে।আলোচনা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের তরফে একুশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছু কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, আগামী ২রা ডিসেম্বর রতুয়ার কাহালায়, ১৪ ডিসেম্বর পুখুরিয়ার মহারাজনগরে, ১৬ ডিসেম্বর মালতিপুরের খানপুরে, ২১ ডিসেম্বর হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের কুশিধায়, ২৭ ডিসেম্বর চাঁচলের খরবায় এবং ৩০ ডিসেম্বর হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মিটনায় দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়ে এই ছয়টি ব্লকে বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পরে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে জেলার বাকি নয়টি ব্লকেও একই রকম কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে বলে নেতৃত্বরা জানান।

বিজেপি-মিমের বিরুদ্ধে সূর চড়িয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের জেলা সভাপতি মুশারফ হোসেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে রুখতে হলে সংখ্যালঘুদের একজোট করে তৃণমূলের পক্ষে আনতে হবে। তাছাড়া জেলায় আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিমের কোনও প্রভাব নেই। তবুও সংখ্যালঘু মানুষের মনে ওয়াইসী সম্পর্কে যথেষ্ট সমীহ রয়েছে। সংখ্যালঘু সেল মনে করে বিধানসভা ভোটে মিম লড়াই করলেও তারা কোনও আসনে জয় লাভ করতে পারবে না। তবুও মিমের ভাঁড়ারে যদি কিছু ভোট কেটে চলে যায়, তবে আখেরে তা তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষতি করবে। আর এই ভোট কাটাকুটির অংক সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে অক্সিজেন যোগাবে। তাই এখন থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সংখ্যালঘু সেলকে।

সেলের কার্যকরী সভাপতি ও মালদা জেলা পরিষদের কৃষি এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, একুশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্বে যেমন হিন্দু মৌলবাদ মাথাচাঁড়া দিচ্ছে, তেমনি মিমের নেতৃত্বে মুসলিম মৌলবাদ মাথাচাঁড়া দিচ্ছে। এর ফলে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলির ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাচ্ছে এই দুটি দল। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে যাতে বিহারের প্রভাব না পড়ে সেই জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেল। তা হল, প্রতি ব্লকের অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মাদ্রাসার আলেম, ওলামা, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও সুশীলসমাজকে দলীয় সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।

সেলের জেলা সভাপতি মুশারফ হোসেন আরও বলেন, আমরা হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল, মালতিপুর ও রতুয়া এই চারটি বিধানসভার ছয়টি ব্লকে ডিসেম্বর মাসজুড়ে এক প্রচার কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। এই কর্মসূচির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে “একুশের নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের করণীয়”। সেলের মতে, বিগত লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় বিজেপি লোকসভা আসনটি সহজেই জিতে যায়। আগামী একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট যদি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে বিভক্ত হয় তাহলে ক্ষতিটা হবে সংখ্যালঘুদের।