ফালাকাটায় বিজেপিকে টেক্কা দিচ্ছে তৃণমূলের মহিলা সংগঠন

463

ফালাকাটা: ফালাকাটায় পরস্পর বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমেছে। মূল সংগঠনের পাশাপাশি দু’পক্ষের একাধিক শাখা সংগঠনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ফালাকাটায় বিজেপির মহিলা মোর্চাকে টেক্কা দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সংগঠন। নিজস্ব শাখা সংগঠনের বেঁধে দেওয়া কাজের পাশাপাশি মূল সংগঠনের একাধিক জনসংযোগমূলক কাজেও ঝাপিয়ে পড়েছেন তৃণমূলি মহিলারা। তাঁরা এখন ‘দিদির ডায়ারি’ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। অপরদিকে বিজেপির মহিলা মোর্চার প্রকাশ্যে তৎপরতা সেরকম দেখা না যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। বিজেপি তৃণমূলের তুলনায় মহিলাদের গুরুত্ব কম দিচ্ছে কী না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে গেরুয়া শিবির মহিলা মোর্চার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ মানতে চায়নি। এদিকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে জনসংযোগমূলক কাজে মহিলারা শামিল হচ্ছেন বলে তৃণমূলের নেতারা জানিয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির কাছে ২০২১ এর ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হল ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। ২০১১, ২০১৬’র পর ২০২১ সালে এই আসন তৃণমূলের দখলে থাকবে কী না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, বিধায়ক অনিল অধিকারি সহ শাসক দলের দক্ষ ও প্রবীণ নেতারা জীবিত না থাকায় এমনিতেই সাংগঠনিকভাবে হোঁচট খেতে হচ্ছে শাসক দলকে। আবার গত লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপির থেকে ২৭ হাজার ভোট কম পাওয়ায় সেই ঘাটতি পূরণ করে এবার দলের মর্যাদা ধরে রাখাটাও তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এবার বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের থেকে ভোট বেশি পাওয়ায় ফালাকাটায় জেতার ক্ষেত্রে এবার যথেষ্ট আশাবাদী গেরুয়া শিবির। তাই ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, উভয়পক্ষ ততটাই তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে দুই সংগঠনে মহিলাদের গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তারতম্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা হচ্ছে।

- Advertisement -

সম্প্রতি ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সংগঠনে কোন্দল প্রকাশ পেলেও মহিলা সংগঠনে এখনও কোনও সমস্যা প্রকট হয়নি। ব্লক কমিটির পাশাপাশি ১২টি অঞ্চলেও মহিলা সংগঠন রয়েছে তৃণমূলের। চার-পাঁচ মাস আগে সংগঠনের ব্লক ও অঞ্চল নেত্রীরা মানুষের বাড়ি বাড়ি হেঁশেলে গিয়ে গল্পগুজব করে জনসংযোগ করেছিলেন। পিকে’র টিমের নির্দেশে দলের অন্যান্য কর্মসূচিতেও মহিলা নেত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাঁরা এখন ‘দিদির ডায়ারি’ নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কে কোন কোন রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন তা লিখে নিচ্ছেন। ফালাকাটা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভানেত্রী সুতপা ভদ্র বলেন, ‘দলের গাইডলাইন মেনে আমরা যেকোনও কর্মসূচিতেই ঝাপিয়ে পড়ি। এখনও জনসংযোগমূলক কাজ চলছে। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। বাড়ির মহিলাদের সঙ্গেই বেশি মেলামেশা হচ্ছে। এই মাসে আরও নতুন কর্মসূচিও করা হবে।’ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘আমাদের সংগঠনে বরাবরই মহিলাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফালাকাটায় আমাদের মহিলা সংগঠনও যথেষ্ট সক্রিয়। তাঁরা সবসময় জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।’ এদিকে বিজেপি মহিলা মোর্চার জেলা সভানেত্রী দিপীকা সরকারের বাড়ি ফালাকাটায়। তবে তিনি সংগঠনের নিষ্ক্রিয়তার কথা মানতে চাননি। দিপীকাদেবী বলেন, ‘আমরাও বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ চালাচ্ছি। এই মাসেই ফালাকাটা সহ প্রতিটি ব্লকে মহিলা মোর্চার ধর্না কর্মসূচি রয়েছে।’ বরং তৃণমূলের সংগঠন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দলের কাজে ব্যবহার করে বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগের পালটা তৃণমূলের সুতপা ভদ্র বলেন, ‘সরকারি কাজে আমরা হস্তক্ষেপ করি না। দলের কাজ দলীয়ভাবেই হয়।’ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, ‘ফালাকাটায় আমাদের মহিলা সংগঠন যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে। আমরা লোকদেখানো জনসংযোগ করি না। আমাদের মহিলারাও বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। ১৪ ডিসেম্বর থেকে মহিলা মোর্চার ধর্না কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।’