চা শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নামছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনগুলি

283

নাগরাকাটা: চা শ্রমিক ও কর্মচারীদের মজুরি-বেতন বৃদ্ধির দাবিতে উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিতে জোটবদ্ধ গেট মিটিংয়ে নামছে তৃণমূল কংগ্রেসের চা শ্রমিক সংগঠনগুলি। ২৩ নভেম্বর ওই গেট মিটিংয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে। মজুরি-বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের প্রভিডেন্ড ফান্ড অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার তথ্যর অসামঞ্জস্যতা দূর করতে প্রতি বাগানে আধার আপডেট শিবির, মজুরি থেকে কেটে রাখা হলেও সঠিক সময়ে পিএফ জমা না দেওয়া বাগানগুলির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ, বাগানগুলির নিজস্ব হাসপাতাল পরিষেবার বেহাল দশা দূর করা ও চা শ্রমিক-কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৮ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করার দাবিগুলিও গেট মিটিংয়ের মূল ইস্যু হিসেবে রাখা হয়েছে।

তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠন তরাই ডুয়ার্স প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি নকুল সোনার বলেন, ২৩ নভেম্বর গেট মিটিংয়ে নামছি। দলের অন্যান্য সংগঠনগুলির সঙ্গে একত্রিতভাবে সব বাগানেই গেট মিটিং হবে। চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের অন্যতম শীর্ষ নেতা বাবলু মুখোপাধ্যায় বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায়ে ওই গেট মিটিং। চা বাগানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কেন্দ্র সরকারের দপ্তরগুলি তাঁদের ভূমিকা ঠিকমতো পালন করছে না। গেট মিটিংয়ে এসবের প্রতিবাদ জানানো হবে। আইএনটিটিইউসি-র জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সভাপতি মিঠু মোহন্ত বলেন, সবকটি সংগঠন এক সঙ্গে গেট মিটিংয়ে সামিল হবে। আমাদের মূল দাবি, ন্যূনতম মজুরি। তা বাস্তবায়িত করতে রাজ্য সরকারও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

- Advertisement -

সংশ্লিষ্ট সূত্রেই জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার শিলিগুড়ির সার্কিট হাউসে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের উপস্থিতিতে তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠনগুলির কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতাদের মধ্যে যে বৈঠক হয়, সেখানে চা বাগানের জন্য রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি আরও বেশি করে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উঠে আসে চা সুন্দরী নামে আবাসন প্রকল্পটির কথাও। দলের দ্বিধাবিভক্ত শ্রমিক সংগঠনগুলিকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে নতুন একটি সংগঠন গড়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সে ব্যাপারেও মলয় ঘটক আলোচনা করেন বলে জানা গিয়েছে। এদিনের বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাদল দাসগুপ্ত, পুলিন গোলদার, অমরনাথ ঝা, মানিক দে-র মতো শ্রমিক নেতারা।