‘তৃণমূলের শত্রু তৃণমূলই’, জনসভার মঞ্চে ঘোষণা দলীয় সাংসদের

775

বর্ধমান: তৃণমূলের শত্রু তৃণমূলই, মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের সাহাপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভা মঞ্চ থেকে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডল। আর কয়েকমাস পর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে সুনীল মণ্ডলের এমন মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা তৃণমূল শিবিরে। যদিও এদিনের জনসভায় উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের দাবি, সুনীল মণ্ডল বাস্তবটাই জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।

পূর্ব বর্ধমানের ২৬২ জামালপুর (তপঃ) বিধানসভা আসনটিকে এবার পাখির চোখ করেছে বিজেপি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জামালপুরের বামদূর্গে ঘাসফুল ফুটলেও উলোটপুরাণ ঘটে যায় ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে। সেবার গোটা রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ভাল ফল করলেও ভরাডুবি হয় জামালপুর বিধানসভা আসনে। বাম প্রার্থী সমর হাজারার কাছে পরাজিত হন তৃণমূল কংগ্রের প্রার্থী উজ্জ্বল প্রামাণিক। এবার জামালপুর বিধানসভা আসন ছিনিয়ে নিতে মরিয়া বঙ্গ বিজেপি।

- Advertisement -

স্বয়ং রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষও কিছুদিন আগে জামালপুরের সাহাপুরে জনসভা করে যান। ওই দিন দিলীপ ঘোষের কনভয়ের পথ আটকে কালো পতাকা দেখানো নিয়ে অশান্ত হয় জামালপুরের জৌগ্রাম এলাকা। সংঘর্ষ বাঁধে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে। সেদিন সাহাপুরের জনসভা মঞ্চ থেকেই দিলীপ ঘোষণা করেন এবার জামালপুর আসনে পদ্ম ফুটবেই। দিলীপ ঘোষের দাবিকে নস্যাৎ করতে এদিন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান ও ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি ভূতনাথ মালিক সাহাপুরে পাল্টা জনসভার আয়োজন করেন। এদিনের জনসভায় বিপুল জনসমাগম হয়। জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ সুনীল মণ্ডল দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।

তৃণমূল সাংসদ এদিন বলেন, ‘দলের যাঁরা সেদিন পথে নেমে দিলীপ ঘোষের বিরোধীতা করতে গিয়েছিলেন, তাঁরা ঠিক করেননি। ওইসবের জন্যই সেদিন বিজেপির জনসভায় লোক বেড়ে গিয়েছিল। বিজেপি ঝামেলা চাইছে। আর সেই ফাঁদেই পা দিলে যা হয়, সেদিন তাই হয়েছে।’ জামালপুর বিধানসভায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে বিরুদ্ধ গোষ্ঠীকে একহাত নেন সুনীলবাবু। তিনি জানান, গত লোকসভা নির্বাচনে জামালপুরের তৃণমূলের একটি গোষ্ঠী যদি বিরোধীতা না করত, তাহলে তিনি ৪০-৫০ হাজার ভোটের লিড পেতেন। মেহেমুদ খানের বিরোধী গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করে সুনীল মণ্ডল বলেন, ‘যাঁদের সাংগঠনিক শক্তি নেই, জনসভায় জনসমাগম ঘটানোর মুরোদ নেই, তাঁদের গোষ্ঠী করার কী আছে।’ 

সুনীলবাবু এদিন সাফ জানিয়ে দেন, আগামী বিধানসভা ভোটে জামালপুর আসনে এমন একজনকে প্রার্থী করা হবে, যিনি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি হবেন।