বিজেপির সমর্থনেই প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন তৃণমূলের

307

সামসী: অপেক্ষার অবসান। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানকে নির্বাচিত করল তৃণমূল। রতুয়া ১ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ আসন বিশিষ্ট সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতে এদিন প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনে ১২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেই সভাতে সর্বসম্মতিক্রমে নবকুমার মণ্ডলকে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। অপরদিকে, উপপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইসমোতারা বিবি। প্রধানের অপসারণকে কেন্দ্র করে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর কাজিয়ায় প্রায় দশমাস ধরে সামসী পঞ্চায়েতের সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ আটকে ছিল। পঞ্চায়েতে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় দশ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে বলেও জানা গেছে। অবশেষে প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় এখন উন্নয়নের কাজে গতি আসবে বলে আশা করছেন বাসিন্দারা। রতুয়া ১ ব্লকের বিডিও রাকেশ টোপ্পো জানিয়েছেন, এদিন ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখেই প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন পর্ব সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০ আসন বিশিষ্ট সামসী গ্রাম পঞ্চায়েত। তারমধ্যে পঞ্চায়েত ভোটে শাসকদল অর্থাৎ তৃণমূল একাই পায় ১২টি আসন, কংগ্রেস ৫টি এবং বিজেপি ৩টি আসন পায়। তৃণমূলের তরফে প্রধান হন শ্রবনকুমার দাস ও উপপ্রধান হন আমিরুল ইসলাম। বোর্ড গঠনের কিছুদিন পর কংগ্রেসের ৫ সদস্য শাসকদলে যোগদান করেন। এতে শাসকদলের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭জন। পঞ্চায়েত ভোটের কিছুদিন পর বিজেপির এক সদস্য মারা যান। বর্তমানে পঞ্চায়েতে ১৯ জন সদস্য রয়েছে। এই ১৯ জন সদস্যের মধ্যে প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ, জিআরের চাল চুরি সহ একাধিক অভিযোগ তুলে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ বিধানসভা ভোটের পরেই অনাস্থা প্রস্তাব আনেন ১২ জন সদস্য।তার মধ্যে শাসক দল তৃণমূলেরই ১০ জন সদস্য রয়েছে। বাকি দুই জন বিজেপির। প্রধানের পক্ষে ছিলেন মোট সাত জন সদস্য।

- Advertisement -

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন প্রধান শ্রবণকুমার দাস। এদিন তিনি জানান, অন্যায়ভাবে তাঁর নিজের দলেরই কিছু সদস্য বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে সরিয়েছে। তৃণমূলের রতুয়া ১ ব্লক সভাপতি ফজলুল হক জানিয়েছেন, গত এক বছরে পঞ্চায়েতে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। দলের সদস্যদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ না করে প্রধান একাই কাজ করছিলেন। তাই সামসী পঞ্চায়েতের উন্নয়নের স্বার্থে সার্বিকভাবে প্রধান উপপ্রধানকে বদলে দেওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প রাস্তা ছিল না। ব্যাক্তির চেয়ে দলের স্বার্থ আগে। অন্যদিকে বিজেপির তরফে রাজ্য যুব মোর্চার সহ সভাপতি অভিষেক সিংহানিয়া জানিয়ে দেন, উন্নয়নের স্বার্থে তাঁদের দলের দুই সদস্য নতুন প্রধান ও উপপ্রধানকে সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেসও এই পরিবর্তনের পাশেই দাঁড়িয়েছে। তবে তৃণমূল ও বিজেপির এই ঘনিষ্ঠতাকে কটাক্ষ করেছে সিপিএম।