উত্তর-পূর্বে ফের ভূমিকম্প, এবার কেঁপে উঠল ত্রিপুরা

519
পিটিআই

অনলাইন ডেস্ক: উত্তর-পূর্বে ফের ভূমিকম্প। এবার কেঁপে উঠল ত্রিপুরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে ৪৬ নাগাদ ত্রিপুরার ধর্মানগর শহর থেকে ৬৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ছিল কম্পন অনুভূত হয়। রিখটর স্কেলে তীব্রতা ছিল ২.৮। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

- Advertisement -

গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার উত্তর-পূর্বে ভূমিকম্প হয়েছে। বুধবার সকালে মিজোরামের চম্মাইয়ের কাছে ভূমিকম্প হয়। রিখটর স্কেলে তীব্রতা ছিল ৪.১। মঙ্গলবারও মায়ানমার সংলগ্ন দক্ষিণ মিজোরামের লুংলেইয়ে ভূমিকম্প হয়।

সেদিন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের তরফে জানানো হয়, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি জায়গায় গির্জা সহ কয়েকটি ভবনের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। কয়েকটি জায়গায় জলের ট্যাংকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তার আগের দিন সোমবার ভোর ৪.১০ মিনিট নাগাদ মিজোরামে জোরালো ভূমিকম্প হয়। চম্পাইয়ের ২৭ কিলোমিটার পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে  ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটর স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫.৫। সেই ভূমিকম্পের জেরে মিজোরামে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

সোমবার রাত ১২.৪০-এ নাগাল্যান্ডের কোহিমা থেকে ৪৪ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে কম্পন অনুভূত হয়। রিখটর স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ২.৮। তবে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এদিকে রবিবার বিকেলে ৪টে ১৬ নাগাদ মিজোরামে ভূমিকম্প হয়। রাজধানী আইজল থেকে প্রায় ২৫ কিমি পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে কম্পন অনুভূত হয়। মিজোরামের পাশাপাশি অসম, মেঘালয়, মণিপুরেও জোরালো কম্পন অনুভূত হয়। রিখটর স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.১।

তার আগে ১৮ জুন উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে মৃদু ভূমিকম্পে হয়। কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫। মিজোরামের চম্পাইতে ভূমি থেকে ৮০ কিমি কম্পনের উপকেন্দ্র গভীরে ছিল। শিলং-সহ উত্তর-পূর্বের প্রায় সব শহরেই সেদিন কম্পন অনুভূত হয়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভূমিকম্প হচ্ছে। দিল্লি, গুজরাত, কাশ্মীর, হরিয়ানা, আন্দামান, মিজোরাম, উত্তরাখন্ড, হিমাচলপ্রদেশ সহ দেশের নানা প্রান্তে ভূমিকম্প হয়েছে। কম্পনের মাত্রা কম থাকলেও একের পর এক কম্পন ভূবিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

তাঁদের মতে, একের পর এক স্বল্প মাত্রার কম্পন বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত নিয়ে আসছে। আইআইটি ধানবাদের সিসমোলজি বিভাগের জিওফিজিক্সের অধ্যাপক পিকে খান জানান, একের পর এক ছোট মাত্রার কম্পন থেকেই বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রের সতর্ক হওয়া উচিত।