দূষণে জর্জরিত করলা, ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন   

117

জলপাইগুড়ি: করলা নদী। জলপাইগুড়ির টেমস হিসেবে পরিচিত। কথিত আছে, এক সময় যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে করলা নদীতে নৌকা ভাসিয়ে ছিলেন দেবী চৌধুরানী। সেক্ষেত্রে উত্তরে বুক চিরে বয়ে যাওয়া করলা নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেকটাই বলে মনে করেন ওয়াকিবহল মহল। তবে, ইতিহাসের স্মৃতি বিজরিত করলা নদী বর্তমানে দূষণের গ্রাসে। ক্রমেই অস্থিত্ব হারাচ্ছে এই নদী। সেক্ষেত্রে শঙ্কিত পরিবেশ প্রেমী সংগঠন থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গবাসী।

অভিযোগ, করলা নদীর দুই ধারে গড়ে উঠছে জনবসতি। জমছে জঞ্জালের স্তূপ। ছড়াচ্ছে দূষণ। নাব্যতা হারাচ্ছে নদী। একই সঙ্গে সংকটের মুখে গতিপথও। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সংগঠনের তরফে একাধিক সময় নদী সংস্কারের দাবি উঠেছিল। দাবি উঠেছিল দেবী চৌধুরানীর স্মৃতি বিজরিত করলা নদীকে ঘিরে পর্যটনের ব্যপ্তি ঘটানো। তবে, সরকারি উদাসীনতার জেরে সবটাই অধরা।

- Advertisement -

স্থানীয়দের অভিযোগ, জঞ্জালের স্তূপে করলা নদী ক্রমশ মুখ ঢাকতে শুরু করায় একদিকে যখন নদীর অস্থিত্ব সংকটের মুখে অন্যদিকে ভারা বর্ষায় জীবন বিপন্ন হতে বসেছে জলপাইগুড়িবাসীর। কেননা, নদীর নাব্যতা ক্রমশ ক্ষীণ হতে থাকায় নদীর জল শহরের ২৫টি ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ছে। সেক্ষেত্রে আগামীতে বানবাসী হওয়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়তে বসেছে স্থানীয়দের।

নদী ও সমাজ বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বহু প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করাতে করলা নদীর পাড়ে অবৈধ ভাবে জনবসতি গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন নদী দূষিত হচ্ছে। নদীর পাড়ে ধোপারা কাপড় কেচে শুকোতে দেয়। অভিযোগ উঠেছে মূলত বিভিন্ন নার্সিংহোমের কাপড় কেচে এখানে শোকানো হয়। পরিণতিতে দূষণ আরও বাড়ছে।’