ভিনরাজ্যের ট্রাকচালকরা জয়গাঁয় আতঙ্ক বাড়াচ্ছেন

সমীর দাস, জয়গাঁ : লকডাউনের শুরু থেকেই ভারত-ভুটান দুই দেশের প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে ভুটান গেট। যদিও ভুটানে অত্যাবশকীয় পণ্য নিয়মিতভাবে রপ্তানি চলছে। তবে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালকরা ভুটানে প্রবেশের আগে জয়গাঁ ও সংলগ্ন এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফলে করোনা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জয়গাঁর বাসিন্দারা।

সম্প্রতি জয়গাঁর দুজন বাসিন্দা ছাড়াও পুরানো হাসিমারার ৮ জন ও দলসিংপাড়ার একজন বাসিন্দার করোনা সংক্রামিত হওয়ার খবরে জয়গাঁ সহ কালচিনি ব্লকের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, জয়গাঁর যাঁরা সংক্রামিত হয়েছেন তাঁদের কোনও ট্রাভেল হিস্ট্রি নেই। জয়গাঁ ও সংলগ্ন এলাকায় করোনা সংক্রমণ বাড়ার জন্য ভিনরাজ্য থেকে আসা ট্রাকচালকদের দায়ী করছেন বাসিন্দারা। ওই ট্রাকচালকদের জয়গাঁয় প্রবেশের পর কোয়ারান্টিনে রাখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বাসিন্দারা বলেন ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য ঠিক রাখতে গিয়ে সীমান্ত এলাকায় করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে প্রশাসনিক অবহেলায়। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, প্রত্যেক ট্রাকচালককে ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে রাখতে গেলে ভুটানে পণ্য পরিবহণ স্তব্ধ হয়ে যাবে। তাই ট্রাকচালকদের যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হচ্ছে।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে প্রতিদিন গড়ে একহাজার ট্রাক ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে পণ্য নিয়ে হাসিমারা, দলসিংপাড়া, জয়গাঁ হয়ে ভুটানে প্রবেশ করে। ভুটানে প্রবেশের আগে জয়গাঁর শুল্ক দপ্তরে অনেকটা সময় ব্যয় হয় চালকদের। ওই সময়ে জয়গাঁর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান ট্রাকচালকরা। ওই ট্রাকচালকদের অনেকেই রেড জোন থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই পণ্য নিয়ে সরাসরি চলে আসছেন জয়গাঁয়। ফলে তাঁদের মধ্যে কে সংক্রমণ নিয়ে আসছেন তা বোঝা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ভুটানের পণ্য নিয়ে এলেও ভুটানে ওই চালকদের ট্রাক থেকে নামতে দিচ্ছে না সেদেশের প্রশাসন। ভুটানের ফুন্টশোলিং শহরে পণ্য নামিয়ে জয়গাঁয় ফিরে এসে দুই-একদিন কাটিয়ে তাঁরা ফিরে যাচ্ছেন। ফলে ট্রাকচালকদের কেউ যদি করোনা সংক্রামিত হন তাঁর থেকে সহজেই করোনা ছড়াতে পাড়ে বলে মনে করছেন জয়গাঁর বাসিন্দারা।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টর মোহন শর্মা। তিনি জানান, জয়গাঁয় সংক্রমণ রুখতে হলে অবিলম্বে স্বাস্থ্য দপ্তরের পদক্ষেপ করা উচিত। বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। জয়গাঁ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রামশংকর গুপ্তা জানান, সংক্রমণ রুখতে সম্প্রতি জয়গাঁর বিভিন্ন সংগঠন মিলে পিপলস ওয়েলফেয়ার অফ জয়গাঁ নামের একটি ফোরাম তৈরি করা হয়েছে। ওই সংগঠনের তরফে প্রশাসনকে বাইরে থেকে আসা যানবাহন সঠিক পদ্ধতিতে স্যানিটাইজ করার দাবি জানানো হয়েছে। তবে ভিনরাজ্যের ট্রাকচালকদের অবাধ বিচরণ না বন্ধ হলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

কালচিনির বিডিও ভূষণ শেরপা বলেন, ওই চালকরা যাতে জনবহুল এলাকায় গাড়ি থেকে না নামেন তার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে উদ্যোগী হতে হবে। যেহেতু আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণের বিষয় জড়িত তাই প্রশাসনের তরফে কড়া পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না। তবে নিয়মিত যাতে ট্রাকগুলি স্যানিটাইজ করা হয় তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।