জাতীয় সড়ক থেকে ট্রাক হাইজ্যাক, গ্রেপ্তার ২

142

ময়নাগুড়ি: জাতীয় সড়ক থেকে ট্রাক হাইজ্যাকের ঘটনা ঘটল ময়নাগুড়িতে। বৃহস্পতিবার ভোরে ময়নাগুড়ির আসাম মোড়ে চালক ও খালাসিকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ট্রাকটি হাইজ্যাক করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও ঘটনার প্রায় ৫ ঘণ্টা পর ট্রাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক থেকে একের পর এক ট্রাক হাইজ্যাকের ঘটনায় আতঙ্কিত দূর পাল্লার ট্রাক চালকরা।

জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের অপরাধ দমন শাখার ডিএসপি বিক্রমজিৎ লামা বলেন, ‘জাতীয় সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অসম পুলিশের সহযোগিতায় হাইজ্যাক হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে।‘

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রের খবর, ট্রাকটি উত্তরপ্রদেশের। ট্রাকের চালক ও খালাসি ২ ভাই। ওঁরাই ট্রাকের মালিক। দিল্লি থেকে চাল বোঝাই করে ১৪ চাকার ট্রাকটি শিলিগুড়ি এসেছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাগুড়ি লাগোয়া এলাকা থেকে আলু বোঝাই করে বিহারে যাওয়ার কথা ছিল ট্রাকটির। বুধবার রাতের খাবার খেয়ে চালক মহম্মদ আক্রম ও খালাসি মহম্মদ মুকাক্রম ময়নাগুড়ির আসাম মোড়ে ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের রাস্তার পাশে ট্রাক দাঁড় করিয়ে ভেতরে ঘুমোচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা নাগাদ ৬ জনের একটি দুষ্কৃতী দল জানালা ভেঙে ট্রাকের ভেতরে ঢুকে ট্রাকের দুই কর্মীকে মারধর করে।

এরপর দুষ্কৃতীরা দড়ি দিয়ে চালক-খালাসির হাত-পা বেঁধে মাথায় বন্দুক দেখিয়ে ট্রাক নিয়ে ধূপগুড়ির দিকে রওনা দেয়। মাঝে রানিরহাট মোড়ে চালক ও খালাসিকে ট্রাক থেকে নামিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। সঙ্গে নামে ২ দুষ্কৃতীও। বাকি ৪ জন ট্রাক নিয়ে ধূপগুড়ির দিকে রওনা দেয়। রানিরহাট এলাকায় ২ দুষ্কৃতী ট্রাক চালক ও খালাসিকে রাস্তার পাশে বেঁধে রাখে। ভোরের আগে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাক চালক ও খালাসিকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে ময়নাগুড়ি থানায় খবর দেন। পুলিশ গিয়ে ২ জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাগুড়ি হাসপাতালে চালক ও খালাসির প্রাথামিক চিকিৎসা করানো হয়।

অন্যদিকে, ময়নাগুড়ি থানার তরফে জেলার প্রতিটি থানার পাশাপাশি অসম ও বিহার পুলিশকেও ট্রাক হাইজ্যাকের কথা জানানো হয়। বেলার দিকে জিপিএস ট্র্যাকারের সাহায্যে ট্রাকের অবস্থান জানতে পেরে অসমের চাপর থানার পুলিশ ট্রাকটিকে আটকায়। সেসময় ২ দুষ্কৃতী পালিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার করা হয় বাকি ২ জনকে। ধৃতদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। তাদের তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার হয়। এরপর ময়নাগুড়ি থানার একটি দল অসম রওনা দেয়। সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ট্রাক হাইজ্যাকের সঙ্গে মণিপুর সহ অন্য রাজ্যের দুষ্কৃতীরাও যুক্ত রয়েছে।

ট্রাকের চালক মহম্মদ আক্রম বলেন, ’কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা ট্রাকের ভেতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। এরপর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ট্রাক নিয়ে তারা ধূপগুড়ির দিকে রওনা হয়। ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত।‘ খালাসি মুকাক্রম বলেন, ‘এর আগে ট্রাক নিয়ে বহুবার এই এলাকায় এসেছি। কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা হয়নি।‘

এদিকে, ঘটনার পর থেকে জাতীয় সড়কে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে একই কায়দায় ময়নাগুড়িতে জাতীয় সড়ক থেকে ট্রাক হাইজ্যাকের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার এখনও কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।