ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : পাঁচ বছরেও আলিপুরদুয়ার শহরে ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি হয়নি। স্থায়ী ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরির জন্য বামফ্রন্ট পরিচালিত পুরবোর্ড এক সময় জমি ও টাকা বরাদ্দ করেছিল। জমিতে মাটি ফেলার পাশাপাশি প্রাচীর দেওয়ার কাজ শুরুও হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের বোর্ডের সময় ট্রাকস্ট্যান্ডের কাজ আর এগোয়নি। স্থায়ী স্ট্যান্ডের অভাবে বিভিন্ন সময় শহরের রাস্তার উপরই ট্রাক দাঁড় করিযে রাখা হয়। এর জেরে শহরে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ। ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি নিযে সিপিএম ও তৃণমূলের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আসন্ন পুর নির্বাচনে বিজেপি এই বিষয়টিকে ইশ্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আলিপুরদুয়ার পুরসভার বাম বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিন্দ্য ভৌমিক বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকার সময় শহরে ট্রাকস্ট্যান্ড গড়তে জমি চিহ্নিত করেছিলাম। পরে ওই জমিতে পুরসভার নিজস্ব ফান্ড থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে মাটি ফেলার পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার কাজ শুরু হয়। কিন্তু আমরা মাত্র এক বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল বোর্ড দখল করে। আমাদের শুরু করা ওই কাজে তারা আর হাত দেয়নি। রাজনীতির কারণেই তারা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে। পুরসভার তৃণমূল বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আশিস দত্ত বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ডের জন্য বাম বোর্ড মোটেও জমি চিহ্নিত করেনি। ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরির জন্য বহু আগেই ওই জমির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাসস্ট্যান্ডের কাজ শুরুর সময় ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। এজন্য টাকাও বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু ওই কাজ কিছুটা এগোনোর পরই আমাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এজন্য কাজ আর এগোয়নি।

সূত্রের খবর, পুরসভার তৎকালীন বাম বোর্ড প্রায় পাঁচ বছর আগে আলিপুরদুয়ার শহরে স্থাযীভাবে ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছিল। এজন্য শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মনোজিৎ নাগ বাসস্ট্যান্ডের পাশে ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এর জন্য পুরসভা দুই একর জমি চিহ্নিতও করে। ওই জমিকে ট্রাকস্ট্যান্ডের জন্য উপযোগী করে তুলতে প্রাথমিকভাবে প্রায় সাত লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এখানে মাটি ফেলার পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার কাজ শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আজও এখানে ট্রাকস্ট্যান্ড গড়ে ওঠেনি। জমিটি আজ এলাকাবাসীর আবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে। সেই প্রাচীর ভেঙেচুরে গিয়েছে। রাতে জমিটি সমাজবিরোধীদের দখলে চলে যায়। এনিযে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি বিষয়টিকে আসন্ন পুর নির্বাচনে ইশ্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি গজেন বর্মন বলেন, সাধারণ বাসিন্দাদের দাবি মেনে শহরে ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শহরের উন্নয়নে বাম বা তৃণমূল বোর্ড চূড়ান্ত ব্যর্থ। আসন্ন পুর নির্বাচনে দুই বোর্ডের এই ব্যর্থতাকে সবার সামনে তুলে ধরা হবে। বিজেপির টাউন মণ্ডল সভাপতি অমিতাভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিগত দুই বোর্ডই শহরে বাস ও ট্রাকস্ট্যান্ড গড়তে ব্যর্থ। এর জেরে বাসিন্দাদের ভোগান্তি হচ্ছে। ওদের এই ব্যর্থতাকে সবার সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।