নথি ছাড়া শিলিগুড়ি শহরে শক্তিমান

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : কোনো ফিটনেস, পলিউশন সহ অন্যান্য কাগজপত্র এমনকি বিমা ছাড়াই শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শক্তিমান গাড়ি। বিশেষ করে নদী থেকে বালি পরিবহণের কাজ করে এই গাড়িগুলি। জাতীয় এবং রাজ্য সড়কের পাশাপাশি প্রতিদিন শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছে এই গাড়িগুলি। কোনো কাগজপত্র না থাকায় কোনো দুর্ঘটনা হলে এবং তাতে কারও মৃত্যু হলে কোনো ক্ষতিপূরণই পাবে না মৃতের পরিবার। অথচ শহরে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দিনের পাশাপাশি রাতভর ঘুরছে শক্তিমানগুলি। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক নবীন অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফিটনেস সহ অন্যান্য কাগজপত্র ছাড়া  শক্তিমানগুলি চলছে এমন ঘটনা আমাদের নজরে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যিই কি এমন ঘটনা পরিবহণ দপ্তরের নজরে নেই? নাকি সবকিছু জেনেশুনেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে এই গাড়িগুলিকে, সেই প্রশ্ন উঠছে।

শিলিগুড়ি শহর ছাড়াও মাটিগাড়া, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় প্রতিদিন প্রচুর শক্তিমান গাড়ি পণ্য পরিবহণের কাজ করে। মূলত নদী থেকে বালি, পাথর তুলে তা গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ইট, সিমেন্ট সহ অন্য জিনিসপত্র পরিবহণ করা হয়। শিলিগুড়ি শহরেও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত পাড়ায় পাড়ায় শক্তিমান থেকে বালি সহ অন্য পণ্য নামাতে দেখা যায়। এই গাড়িগুলির সিংহভাগেরই কোনো কাগজপত্রই নেই। বিভিন্ন নদীঘাটে বালি বোঝাই হওয়ার সময় গাড়িগুলির চালকদের কাছে কাগজপত্রের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, গাড়িতে বাস্তবে কোনো কাগজপত্রই নেই। অথচ একটি গাড়িতে সবসময় ফিটনেস, পলিউশন, থার্ড পার্টি বিমা সহ অন্যান্য সমস্ত নথিপত্র আপ-টু-ডেট থাকার কথা। এই গাড়িগুলির একদিকে যেমন কোনো কাগজপত্র নেই, তেমনই গাড়িগুলি রয়্যালটিও ফাঁকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। নদীঘাট সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন নৌকাঘাটে, মহানন্দা নদীর ঘাটে ২৫০-৩০০ গাড়িতে বালি বোঝাই হয়। অন্যদিকে, মাটিগাড়ার বালাসন নদীতেও ২০০-২৫০টি গাড়িতে বালি বোঝাই হয়।

- Advertisement -

দুই ঘাট মিলিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি শক্তিমান গাড়িতেই বালি বোঝাই করে বিক্রির জন্য বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া হয়। এই গাড়িগুলির সিংহভাগই রয়্যালটিও দেয় না। আবার গাড়ির কাগজপত্রও কিছুই নেই। ফলে, পুরোপুরি বেআইনিভাবে গাড়িগুলি শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জাতীয় বিমা সংস্থা ন্যাশনাল ইনশিয়োরেন্স কোম্পানির এজেন্ট সুবীরকুমার ওঝা বলেন, একটা গাড়ির বিমা করার সময় ফিটনেস থেকে শুরু করে সমস্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু শক্তিমানগুলির সিংহভাগেরই কোনো নথিপত্র না থাকায় এগুলির বিমা আমরা করি না। কেননা একটা দুর্ঘটনা ঘটলে আদালত তো বিমা সংস্থাকেও দায়ী করবে। এই গাড়িগুলি কোথাও দুর্ঘটনায় পড়লে এবং কেউ মারা গেলে পরিবার আর্থিক ক্ষতিপূরণই পাবে না।

শিলিগুড়ির অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ডম্বর সিং টোমার বলেন, এসব বিষয় পরিবহণ দপ্তরের পাশাপাশি আমাদেরও দেখার কথা। কিন্তু আমাদের ট্রাফিক পরিসেবা চালু থাকে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই সময়ে বাইরে শক্তিমানগুলি শহরে ঢুকলে আমাদের পক্ষে সেগুলির নথিপত্র পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তবুও আমি প্রত্যেকটি ট্রাফিক গার্ডকেই বিষয়টি জানিয়ে দিচ্ছি। কোনো শক্তিমান নজরে এলেই সেগুলির নথিপত্র পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেব।