করোনা নয়, ভারতে এখনও সর্বাধিক মৃত্যু যক্ষ্মায়

435

নয়াদিল্লি : আজও ভারতে করোনার থেকে বেশি প্রাণ যায় যক্ষ্মারোগে। জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে ভারতে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৪ লক্ষ মানুষ। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭৯ হাজারের। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (হু) অনুমানের থেকে অনেক কম হলেও, প্রতি তিন মাসে যক্ষ্মায় এদেশে মারা যাচ্ছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। অন্যদিকে করোনায় সংক্রামিত হয়ে গত সাড়ে তিন মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার মানুষের।

হু জানিয়েছে, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা ১১ শতাংশ বেড়েছে। এই সংখ্যাটা ২৬.৯ লক্ষের কম নয়। সরকারি নথিতে খুঁজে পাওয়া যায় না, এমন রোগীর সংখ্যা আগে আরও বেশি হত। এখন সেটা কমে এলেও ফাঁকটা পুরোপুরি ভরাট হয়নি। ২০১৭ সালে অনথিভুক্ত যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা ১০ লক্ষের বেশি হলেও ২০১৯ সালে তা কমে ২.৯ লক্ষ হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের প্রকাশিত যক্ষ্মা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে। প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে যক্ষ্মায় মৃত্যু হয়েছে ৭৯,১৪৪ জনের। যদিও সংখ্যাটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া অনুমানের চেয়ে (৪.৪ লক্ষ) অনেক কম।

- Advertisement -

২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে বেসরকারি ক্ষেত্রে যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালে নথিভুক্ত যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা ছিল ৬.৮ লক্ষ, যা ২০১৯ সালে নথিভুক্ত রোগীর সংখ্যার মাত্র ২৮ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় বেসরকারি ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত করে দেওয়া, তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা এবং বাধ্যতামূলক পঞ্জিকরণ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সমন্বয় গড়ে তোলার ফলে নথিভুক্ত যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিককালে বেড়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা পরিষেবার পরিসর আগের চেয়ে অনেক বাড়ায় বেড়েছে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যাও। ২০১৮ সালে নথিভুক্ত রোগীদের সুস্থতার হার ৬৯ শতাংশ থাকলেও ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৮১ শতাংশ হয়েছে। যক্ষ্মারোগীদের এইচআইভি পরীক্ষার হারও আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ সালে নথিভুক্ত যক্ষ্মারোগীদের ৬৭ শতাংশের এইচআইভি পরীক্ষা হয়েছিল। ২০১৯ সালে এইচআইভি পরীক্ষার আওতায় আনা হয় ৮১ শতাংশ যক্ষ্মারোগীকে। নথিভুক্ত রোগীদের অর্ধেক উত্তরপ্রদেশ, (২০ শতাংশ), মহারাষ্ট্র (৯ শতাংশ), মধ্যপ্রদেশ (৮ শতাংশ) এবং রাজস্থান ও বিহারের (৭ শতাংশ করে)। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন প্রতিবেদন প্রকাশের খবর জানিয়ে বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের মাটি থেকে যক্ষ্মা রোগকে নির্মূল করার লক্ষ্যে সরকার ঠিক পথে এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের যে লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে, তা ছুঁতে গেলে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষ্মা রোগকে বিদায় করতে হবে। এই কারণে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির নাম পালটে করা হয়েছে জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূলকরণ কর্মসূচি। ৫০ লক্ষের বেশি যক্ষ্মারোগী আছেন এমন রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভালোভাবে এই কর্মসূচি রূপাযিত হয়েছে গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং হিমাচল প্রদেশে। যেসব রাজ্যে যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা ৫০ লক্ষের কম, তাদের মধ্যে কর্মসূচি রূপায়ণে এগিয়ে রয়েছে ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ড। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে কর্মসূচি সাফল্যের সঙ্গে রূপাযিত হয়েছে দাদরা, নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউতে। তবে যক্ষ্মা সম্পর্কে মানুষের মনে এখনও নানারকম ভীতি ও কুসংস্কার গেড়ে বসে থাকায় যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করে নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।