ভেষজ বাগান বানিয়ে দেশের সেরা তুফানগঞ্জ

291

রাজীব বসাক, তুফানগঞ্জ: তুলসী, বাসক, কালমেঘ। আরও আছে। থানকুনি, কুলেখাড়া, ব্রাহ্মী। খেতে খুব একটা ভালো না হলেও শরীরকে ভালো রাখতে এসবের জুড়ি মেলা ভার। আমরা অনেকেই এসব ভেষজ উদ্ভিদের বিষয়ে জানি। কিন্তু সেভাবে আর ব্যবহার করি কই! তুফানগঞ্জ-১ ব্লক কিন্তু করছে। এলাকার বেশ কয়েkটি জায়গায় ভেষজ উদ্ভিদের বাগান বানিয়ে তুফানগঞ্জ-১ ব্লক বেশ আছে। বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের বাড়িতে এই বাগান বানিয়েছেন। নাটাবাড়ি ব্লক হাসপাতালের সিনিয়ার আয়ুর্বেদিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ বাসবকান্তি দিন্দা এর নেপথ্যে। দিল্লিতে ২২ ডিসেম্বর থেকে ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া সায়েন্স ফেস্টিভাল, ২০২০ শুরু হয়েছে। ভেষজ বাগান কীভাবে এলাকার বাসিন্দাদের জীবনয়াত্রা আরও সহজ করে তুলেছে তা বিস্তারিতভাবে লিখে তাঁর এই উদ্যোগকে ভেষজ সুরক্ষা প্রকল্প হিসাবে ডাঃ দিন্দা এই উৎসবে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তবে আশা করেননি এই বিভাগে তা সেরা নির্বাচিত হবে। তারপর থেকেই ডাক্তারবাবু আনন্দে ভাসছেন। নাটাবাড়ি ব্লক হাসপাতালের সহকর্মীরাও। নিজের এলাকার এই সাফল্যে কোচবিহার জেলাও গা ভাসিয়েছে।

সূত্রের খবর, তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের পাঁচটি হাসপাতালের পাশাপাশি ৬৬টি স্কুলে ভেষজের বাগান তৈরি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছর ডাঃ দিন্দা তাঁর তুলসী গ্রাম প্রকল্পের জন্য পুরস্কৃত হয়েছিলেন। পরে রাজ্য সরকারের ছয়টি দপ্তরের সমবেত উদ্যোগে এই প্রকল্পটি তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের ১২টি গ্রামে শুরু হয়। তুলসী চাষের জন্য ১৫৬ জন গ্রামবাসীকে বীজ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরে তুলসীপাতা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে। এরপর ডাঃ বাসবকান্তি দিন্দা সবার কাছে তাঁর ভেষজ উদ্ভিদ বাগানের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও স্কুলের পাশাপাশি বাসিন্দাদের অনেকে তাঁদের বাড়িতে এই বাগান বানিয়ে ফেলেন। পরিকল্পনাকে আরও ফলপ্রসূ করতে শিক্ষক ও আশাকর্মীরা প্রচার চালাতে থাকেন। এক বছরে এলাকায় প্রায় এক হাজার ভেষজ উদ্ভিদ বাগান গড়ে ওঠে।

- Advertisement -

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্ভাবনী চিন্তাকে একত্রিত করতেই দিল্লিতে ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া সায়েন্স ফেস্টিভাল শুরু হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই উৎসব চলবে। উৎসবে ছাত্র, শিক্ষক, তরুণ বিজ্ঞানীরা তাঁদের উদ্ভাবনী শক্তি মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে করোনা পরিস্থিতির জেরে কাউকে এভারে সশরীরে উৎসবে উপস্থিত হতে হয়নি।  গোটা ব্যবস্থাটিই অনলাইনে করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই উৎসবে তাঁদের বিভিন্ন পরিকল্পনা পাঠাচ্ছেন। ডাঃ বাসবকান্তি দিন্দাও পাঠিয়েছিলেন। তাঁর পাঠানো ভেষজ সুরক্ষা প্রকল্প উৎসবের অন্যতম সেরা নির্বাচিত হয়ে উত্তরবঙ্গকে গর্বিত করেছে।