ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্মেলনের মঞ্চে টুম্পাসোনার শিল্পীরা

169

রাহুল দেব, রায়গঞ্জ : বিধানসভা নির্বাচনের সময় ‘টুম্পাসোনা’ গানের প্যারোডিতে প্রচার করেছিল সিপিএম।  সেই সময় সিপিএমের মতো দলের প্রচারের জন্য ‘চটুল’ গান কেন প্রয়োজন পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। তবে সিপিএমের নবীন নেতাদের দাবি ছিল, সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানোর জন্যই ‘টুম্পাসোনা’ গানের সাহায্য নিয়েছেন তাঁরা। ভোটে সিপিএমের কোনও আসন জোটেনি। কিন্তু টুম্পাসোনা যেন সিপিএমের পিছু ছাড়ছে না। আগামী ২ থেকে ৪ অক্টোবর রায়গঞ্জের বিধানমঞ্চে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের ১৯ তম রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুষ্ঠান সূচিতে লেখা রয়েছে যে ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় শহরের ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ‘টুম্পাসোনা খ্যাত’ শিল্পীরা পারফর্ম করবেন। যা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই অনুষ্ঠান নিয়ে বেজায় চটেছেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতারা। তবে টুম্পাসোনার শিল্পীদের দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন রায়গঞ্জের অনেকেই। শহরের বাসিন্দা অশোক রায়ের কথায়, দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছি না। তবে ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষ্যে টুম্পাসোনার দল আসছে। দেখতে যাবই। পুজোর আগে ভালোভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করব।

ডিওয়াইএফআইয়ের জেলা সম্পাদক ইন্দ্রজিত্ বর্মন জানিয়েছেন, সংগঠনের রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান হবে। শুধুমাত্র উত্তর দিনাজপুর জেলা নয়, রাজ্যের যেকোনও জেলার প্রতিযোগীরা অংশ নিতে পারবেন। আর সন্ধ্যাবেলা করে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো হবে সেগুলোর জন্য সাংস্কৃতিক সাব কমিটি তৈরি করা হয়েছে।

- Advertisement -

তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বর্ষীয়ান এক সিপিএম নেতা জানান, যতীন চক্রবর্তী বেঁচে থাকলে বলতেন অপসংস্কৃতি। বামপন্থী দলে এসব বেমানান। টুম্পাসোনা আমাদের কালচার নয়। যুবসমাজকে দলে টানার অনেক পথ রয়েছে। কিন্তু সেসব ছেড়ে আমরা তাত্ক্ষণিক পথে ছুটছি। ওই সব অনুষ্ঠান মঞ্চে ভিড় হয় ঠিকই। কিন্তু ভোট পাওয়া যায় না। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো নেত্রী যে সংগঠনের সভানেত্রী, সেখানে টুম্পাসোনা মানায় না। হারিয়ে যাচ্ছে বামপন্থীদের চিরাচরিত গণসঙ্গীত। এসব দেখলে দুঃখ হয়।

শহরের বাসিন্দা প্রধান শিক্ষক শোভন মৈত্রের কথায়, শুধু সিপিএম বা ডিওয়াইএফআই বলে নয়, যে-কোনও রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানের প্রচার এভাবে না করলেই ভালো। গত বিধানসভা নির্বাচনেও দেখা গেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ধরনের চটুল গান দিয়ে নিজেদের প্রচার সেরেছে। ভোটের সময় প্রচার করতে গিয়ে এই সমস্ত গানের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হলেও ভোট পরবর্তী সময়ে এইরকম গান উল্লেখ করে সাংস্কৃতিক কর্মসূচিকে লাইম লাইটে নিয়ে আসা ঠিক নয়। লিফলেটে এই ধরনের গান উল্লেখ করার আগে একবার চিন্তা করা উচিত।