মানুষের জীবনে চোখের জল মুছে দেওযার মতো কাউকে খুঁজে পাওযা কিন্তু সহজ নয। কিন্তু ধরুন, আপনি সমুদ্রতীরে একা বসে কাঁদছেন, আর আপনার চোখের জল মুছে দিতে যে এল সে কোনও মানুষ নয। এক প্রজাপতি। কী করবেন আপনি? নিশ্চযই কান্না থামিযে সরিযে দেবেন প্রজাপতিটিকে? ভাবছেন বিজ্ঞানের পাতায এ আবার কেমন গল্প! না, গল্প নয়। মার্কিন বিজ্ঞানী ফিল টরেস সম্প্রতি গিযেিলেন পেরুর টামবোপাটা নদীর তীরে। সেখানে দেখেন, তিনটে কচ্ছপ নদী থেকে উঠে একটা জায়গায় চুপ করে বসে রোদে গা শুকোচ্ছে। আর তাদের আশেপাশে বেশকয়েকটা রঙিন প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। এরকম সুন্দর দৃশ্য আমরা গ্রামে-গঞ্জেও দেখে থাকব হযতো। কিন্তু খালি চোখে আপাতভাবে যাকে এত সাধারণ বলে মনে হচ্ছে তা মোটেই এত সাদামাটা নয়। যদি বলা হয, কচ্ছপের চোখের জলেই রয়েছে প্রজাপতির জীবন? আসলে, ফিল টরেস এরপর যা দেখলেন তাতে তাজ্জব হওয়ার কথা। তিনি দেখলেন, প্রজাপতিগুলো কচ্ছপের চোখের কোণে বসে চোখের জল খাচ্ছে।
আমরা সবাই জানি শুধু ফুলের মধু খেয়ে বেড়ানোই প্রজাপতির কাজ। বাস্তবে কিন্তু মোটেই তা নয। প্রজাপতির খাবারের মধ্যে রয়েছে নানান ধরনের ফুলের মধু। তবে শুধু মধু খেযে তো বেঁচে থাকা যায না। দরকার আরও নানারকম খনিজ ও লবণ। তাই কচ্ছপ নদী বা সমুদ্র থেকে তীরে এসে বসলেই প্রজাপতিরা দল বেঁধে এসে বসে কচ্ছপের চোখের পাশে। ফিল টরেস বলছেন, কচ্ছপ যে ধরনের খাবার খায তাতে প্রচুর পরিমাণে থাকে সোডিযামজাত লবণ। কিন্তু প্রজাপতি সরাসরি লবণ সংগ্রহ করতে পারে না। তাই সে নির্ভর করে কচ্ছপের ওপর। প্রযোজনীয সোডিযাম সংগ্রহ করতে প্রজাপতি কছপের চোখের জল খায, যা প্রজাপতির জীবন ধারণের জন্য খুবই জরুরি।
টরেস জানান, আমাজনের এই প্রজাতির কচ্ছপগুলো তাদের খোলের ভেতরে মাথা ঢুকিযে নিতে পারে না। তাই প্রজাপতিদের বাধা দিতে হলে এদিক-ওদিক মাথা ঘোরানো ছাড়া আর কোনও উপায নেই। কিন্তু নাছোড় প্রজাপতিগুলোকে তাতে নিরস্ত করা সম্ভব নয়।
এই দৃশ্য আমাজনের জঙ্গলে প্রাযশই দেখা যায। প্রকৃতিতে টিকে থাকার জন্য প্রজাপতিরা এই আচরণ রপ্ত করে নিয়েছে। মজা করেই তাই টরেস বলেন, আপনি যদি খুব ঘেমে-নেযে এখানে শুযে থাকেন, তাহলে প্রজাপতিগুলো আপনার গাযে চলে আসবে ঘামের লবণ খেতে। এমনকি আপনার চোখেও এসে বসতে পারে।