সরকারি বাসে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হল গাঁজা, পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

310
কলকাতাগামী এই বাসে করেই গাঁজা পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

ফাঁসিদেওয়া, ১১ জুলাইঃ উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের বাসে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজা উদ্ধার হল। ছোট পিকআপ ভ্যান এবং লরিতে করে গাঁজা পাচার এখন অতীত। ছক বদলে, এবারে অল্প পরিমানে সরকারি গাড়িতে করে গাঁজা পাচারের ঘটনা সামনে আসতেই ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়াল। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ফাঁসিদেওয়া থানার ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ কোচবিহার-কলকাতাগামী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করল। পাশাপাশি, গাঁজা পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ২ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রের খবর ধৃত পরিমল বর্মন (২৯) এবং বাপ্পা বর্মন (২৩) উভয়েই কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ থানার বলরামপুরের বাসিন্দা।

গাঁজা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ধৃতদের থানায় আনা হয়েছে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঘোষপুকুর ফাঁড়ির ওসি অভিজিৎ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ঘোষপুকুর মোড়ে অভিযান শুরু হয়। এরপর ওই বাসে তল্লাশি চালাতেই অভিযুক্তদের কাছ থেকে ২টি কার্টুন এবং ৩ টি কাপড়ের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস ধারায় মামলা রুজু করছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। জানা গিয়েছে, ওই ২ যুবক কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি থেকে স্টপেজ বাসে উঠেছিল। ওই বাসে আরও প্রায় ১০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের অন্য সরকারি বাসে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাসটি আটক করে পুলিশ চালক এবং খালাসির বক্তব্য নিয়েছে।

- Advertisement -
এই কাগজের কার্টুনের মধ্য থেকেই গাঁজা উদ্ধার হয়েছ।

চলতি বছর ১৫ মে বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ লঙ্কা বোঝাই পিকআপ ভ্যান থেকে প্রায় ২১৫ কেজি গাঁজা সহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ৪ জুন ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ লরিতে গাঁজা পাচারের সময় প্রায় ৬০০ কেজি গাঁজা সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। ২১ জুন বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের অভিযানে পিকআপ ভ্যানে বস্তার আড়াল থেকে প্রায় ২১ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। ৯ জুন ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ লরিতে গাঁজা পাচারের সময় প্রায় ২০০ কেজি গাঁজা সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। ১৫ জুন ঘোষপুকুর ফাঁড়ির ফের আমের খালি টুকরি বোঝাই পিকআপ ভ্যান থেকে ৮০ কেজি গাঁজা সহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করে। চলতি বছরের দার্জিলিং জেলা পুলিশের ফাঁসিদেওয়া থানার প্রতিটি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় কোচবিহার থেকে ঘোষপুকুর হয়ে ভিন রাজ্য বিহার সহ দক্ষিণবঙ্গে লরি কিংবা পিকআপ ভ্যানে গাঁজা পাচার হচ্ছিল। তবে, এবারের ঘটনায় সরকারি বাসে স্বল্প পরিমাণে গাঁজা পাচারের যে চক্র সামনে এসেছে তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। শুধু তাই নয় কোচবিহার থেকে গাঁজা বোঝাই হওয়ার পরও, ঘোষপুকুর পৌঁছানোর আগে, এতগুলি থানা এবং ফাঁড়ি পেরিয়ে গাঁজা ঘোষপুকুর কিভাবে এসে পৌঁছাচ্ছে, তানিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে কি নিস্ক্রিয় অন্য জেলা পুলিশ, নাকি অন্য কোনও বিষয় আছে কিনা তানিয়ে জলঘোলা হচ্ছে। এই কায়দায় কত পরিমাণ গাঁজা পুলিশের নজরের আড়ালে পাচার হয়ে যাচ্ছে, তাও এখন পুলিশ কর্তাদের চিন্তার কারণ। এদিকে, এদিনের ঘটনায় ধৃতদের পুলিশি হেপাজতের আর্জি জানিয়ে শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে বলে দার্জিলিংয়ের ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। গাঁজা মালদা পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই পাচার চক্রে আর কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।