করোনা সংক্রমণে ইঞ্জেকশনের গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

282

কালিয়াগঞ্জ, ১৬ এপ্রিলঃ করোনা ভাইরাসের ইঞ্জেকশন দেওয়ার গুজব ছড়ানোর অভিযোগে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করলো। বৃহস্পতিবার রাতে কালিয়াগঞ্জ শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রশিদপুরের বাসিন্দা ফকির মহলদার (৩৬), এবং ধনকৈল পঞ্চায়েতের বালাস গ্রামের বাসিন্দা পবিত্র বর্মন (২৬) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে মামলা রুজু করেছে। শুক্রবার ধৃতদের রায়গঞ্জ জেলা আদালতে তোলা হবে।

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে একদল বহিরাগত বিভিন্ন এলাকায় ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন। গত শনিবার থেকে গুজবকে ঘিরে কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন মহল্লায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রশিদপুর ও হরিহরপুর এলাকা থেকে এই গুজবের সূত্রপাত হয়েছিল। গত সপ্তাহে হরিহরপুর এলাকা ১ মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে আটক করে পুলিশ হাসপাতালে পাঠায়। রবিবার দুপুরে ফের ওই এলাকা থেকেই আরও ১ মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে আটক করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই রাতে ৯টা নাগাদ বুড়িপুকুর এলাকায় ইঞ্জেকশন কান্ড নিয়ে আবারও হল্লা শুরু হয়।

- Advertisement -

লকডাউনের নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই হাজারো মানুষের সেখানে ভিড় করেছিলেন। খবর পেয়ে পুরপ্রধান কার্তিক পাল ঘটনাস্থলে যান। কালিয়াগঞ্জ থানার বিরাট পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসেও, আতঙ্কিত জনতাকে ঘরে ফেরাতে হিমশিম খায়। এরপর থেকে প্রতি রাতে কখনও কালিয়াগঞ্জ শহর, আবার কখনও গ্রামে এই ইঞ্জেকশনের গুজব ভেসে আসছিল। লকডাউন অমান্য করে আবারো হাজারো মানুষ রাস্তায় বেড়িয়ে পড়তেন।

গুজব রুখতে এবং এলাকার মানুষকে সচেতন করতে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ প্রচারের পাশাপাশি, অভিযুক্তদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করে। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতেই এদিন অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েছে। কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি আশীষ দলুই জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেক ধরে ইঞ্জেকশন নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছিল। গুজব ছড়ানোর পেছনে যারা ছিল, তাদের মধ্যে ২জন অভিযুক্তকে এদিন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হচ্ছে।