স্কুলছাত্রকে খুনের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ২ বন্ধু

297

রতুয়া, ৯ জানুয়ারিঃ স্কুলছাত্রকে অপহরণ এবং খুনের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিনারা করল পুখুরিয়া থানার পুলিশ। মৃত অনীকের বাবা আশীষ কুমার দাসের অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। এরপরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার আরও ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের নাম উঠে আসে। মৃত স্কুল ছাত্র অনীক দাসের প্রতিবেশি বন্ধু আবীর দাস ওরফে বিতান (১৮) ও সাগর কৈবর্ত (২০) পরিকল্পনামাফিক খুন করেছে বলে অভিযোগ। ২ জনই খুনের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে নিয়েছে। শনিবার ২ অভিযুক্তকে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছিল। আদালত ৭ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই খুনের ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে। আটককৃত বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ঘটনার খবরে শুনে হতচকিত গোটা কালীতলা গ্রাম৷

অভিযুক্তদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার ১৫ দিন আগে আবীর ও সাগর পরানপুর ফুটবল মাঠে অনীককে অপহরণ করার পরিকল্পনা করেছিল। অপহরণের পর অনীকের বাবা আশীষ বাবুর কাছে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হবে। সেই মতো বৃহস্পতিবার রাতে অনীককে ব্যাডমিন্টন খেলার নাম করে বাড়ির বাইরে ডাকা হয়। সুযোগ বুঝে অনীকের মুখ চেপে ধরে জোর করে পার্শ্ববর্তী এক পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অনিকের মুখ চেপে ধরে রাখার ফলে, সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।আবীর ও সাগরের মধ্যে ভীত হয়ে পড়ে। অনিকের মুখ বন্ধ রাখতে, তারা এক ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। অনীককে আর বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। অনীক বেঁচে থাকলে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত। সাগর আবীরকে বলে অনিককে প্রাণে মেরে ফেলতে হবে। আবীর অনীকের পা ধরে এবং সাগর ইলেকট্রিকের তার পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে বলে জানা গিয়েছে। সন্দেহ এড়াতে অনীকের বাড়ির সামনে চিঠি ফেলে, সেখান থেকে অভিযুক্তরা চম্পট দেয়।

- Advertisement -

মাত্র ১৩ বছরের ছেলেকে যে এভাবে প্রাণ দিতে হবে তা ভাবতেই পারছেন না গ্রামবাসীরা৷ গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের এক পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে গলায় ইলেকট্রিকের তার পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল অনীকের মৃতদেহ৷ রাত থেকে গ্রামে শুরু হওয়া শোরগোল সকাল হতে ছড়িয়ে পড়েছিল জেলা জুড়ে৷ ঘটনায় মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছিল৷ কিশোর খুনের রহস্য দ্রুত উদ্‌ঘাটন করাকে যেন চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিল পুলিশও৷ অনীকের পরিবারকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তারা এই রহস্যের সমাধান করবে৷ পুলিশি তদন্তে সন্তুষ্ট অনীকের পরিবার, সন্তুষ্ট গ্রামবাসীরাও৷

শনিবার আশিস বাবু বলেন, আমার সঙ্গে রতুয়া সার্কেল ইন্সপেক্টর ও পুখুরিয়া থানার ওসির সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁরা কথা দিয়েছিন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা ছেলের খুনীদের গ্রেপ্তার করবেন৷ তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি চাই তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক৷ এই বিষয়ে গ্রামবাসীরা একমত। রীতিমতো পরিকল্পনা করে অনীককে খুন করা হয়েছে৷ এলাকার বাসিন্দা ষষ্ঠী দাস, শান্তনু দাস, শেখ শাহজাহানরা বলেন, টাকা-পয়সা হাতাতে রীতিমতো পরিকল্পনা করে অনীককে খুন করা হয়েছে৷ এই ঘটনায় জড়িত দোষীদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানাচ্ছি। পুলিশি তদন্তের গতিতে আমরা সবাই সন্তুষ্ট৷ তবে, গ্রামে পরিত্যক্ত বাড়ি থাকার জন্যই অনীককে বেঘোরে প্রাণ হারাতে হয়েছে বলে আমাদের ধারণা৷ তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গ্রামে কোনও পরিত্যক্ত বাড়ি রাখা যাবে না৷ বর্তমানে গ্রামের অনেকেই মালদা শহরে চলে গিয়েছেন৷ তাঁদের বাড়ি তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে৷ সেখানে সমাজবিরোধীদের আড্ডা বসে৷ আমরা এসব বাড়ির মালিকদের ডেকে পাঠিয়েছি৷ তাঁদের বলা হবে, হয় বাড়ি খাস করে দিতে হবে, অথবা বাড়ি ভাড়া কিংবা সেখানে কেয়ারটেকারের ব্যবস্থা করতে হবে৷