একবাটি পান্তাভাতের জন্য মারামারি দুই ভাইয়ের

173

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : দৃশ্যটি দেখে অতি বড় পাষণ্ডেরও চোখে জল আসতে বাধ্য। ভাইয়ের জন্য এক বাটি পান্তাভাত রাখা ছিল। খিদের জ্বালা সহ্য না করতে পেরে দাদা তা খেয়ে নেয়। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের বচসা। ক্রমে হাতাহাতি। চোখের সামনে গোটা ঘটনাটি ঘটতে দেখলেও চোখের জল ফেলা ছাড়া বিছানায় পড়ে থাকা বৃদ্ধ বাবার কিছুই করার ছিল না। নিদারুণ অভাবের তাড়নায় মা তখন সমানে চোখের জল ফেলে চলেছিলেন।

দারিদ্র‌্য কতটা লাগামছাড়া হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে কোচবিহার তারই সাক্ষী থাকল। শহর লাগোয়া টাকাগাছ এলাকার এই ঘটনায় স্থানীয় ক্লাব সংশ্লিষ্ট পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের উদ্যোগেই আপাতত ওই পরিবারের উনুন জ্বলছে। তবে জীবনে কবে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরবে তা নিয়ে তাঁরা চিন্তায় রয়েছেন।

- Advertisement -

ষাটোর্ধ্ব চঞ্চল দাসের বাড়ি কোচবিহার-২ ব্লকের টাকাগাছ-রাজারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার টাকাগাছে। বছরদুয়েক আগে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার অভাবে তখন থেকেই তিনি হাঁটাচলার ক্ষমতা হারান। স্ত্রী চন্দনা দাস এবং দুই ছেলে পঙ্কজ ও প্রীতমকে নিয়ে তাঁর বসবাস। ছেলেরা কোচবিহার শহরে দুটি দোকানে সামান্য বেতনে কাজ করতেন। তা দিয়ে সংসার কোনওমতে চলছিল। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতিতে এক ছেলে পঙ্কজ কাজ হারিয়েছেন। আরেক ছেলে প্রীতমের পারিশ্রমিক প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পুষ্টিকর খাবারের অভাবে শরীরে জোর নেই।

শেষ সম্বল হিসাবে শনিবার এক বাটি পান্তাভাতই সম্বল ছিল। তা নিয়ে দুই ভাইয়ের বচসা চরমে ওঠে। চন্দনাদেবী বলেন, চারজনে মিলে একটি ছোট্ট ঘরে কোনওরকমে দিন গুজরান। অসুস্থ হওয়ার পর স্বামী হাঁটাচলার ক্ষমতা হারিয়েছেন। কথা বলতে পারেন না। অসুস্থ থাকায় ছেলেরাও সেভাবে কাজ করতে পারে না। তবুও ওরা দোকানে কাজ করায় সংসার কোনওরকমে চলত। কিন্তু লকডাউনের জন্য রোজগার প্রায় বন্ধই। এই অবস্থায় কীভাবে দিন কাটবে তা বুঝেই উঠতে পারছি না।

খবর পেয়ে স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরা এদিন পরিবারটির কাছে পৌঁছান। টাকাগাছ বিবেকানন্দ ক্লাব ও ব্যায়ামাগারের উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের হাতে কিছু খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এলাকার দুঃস্থদের সহযোগিতা করতে ক্লাবের সদস্যরা রবিবার জরুরি ভিত্তিতে একটি বৈঠক করেন। ক্লাবের সভাপতি রাজেশ সিং বলেন, ওই পরিবারকে কিছুটা সহযোগিতা করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও করা হবে। আমাদের এলাকায় অনেক দুঃস্থ মানুষ রয়েছেন। তাঁদের হাতে যাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যায় সেবিষয়ে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ক্লাবের সম্পাদক পুলক দাস বলেন, ছোট ভাইয়ের পান্তাভাত দাদা খেয়ে নেওয়ায় দুজনের বচসা হয়। খাবার নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন। ঘটনাটি জানার পর আমরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কিছু সহযোগিতা করা হয়েছে। আমরা ওই পরিবারটির পাশে রয়েছি।